খুলনা | শুক্রবার | ০২ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৮ পৌষ ১৪৩২

তারেকের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াত আমির

দেশের স্বার্থে অতীতেও একসঙ্গে কাজ করেছি, আগামীতেও করব

খবর প্রতিবেদন |
১১:৩১ পি.এম | ০১ জানুয়ারী ২০২৬

 

দেশের স্বার্থে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতে যেমন একসাথে ছিল, আগামীতেও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জ্ঞাপন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে জামায়াত আমির বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। বৈঠক শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। সামনে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট। সংস্কারের জন্য গণভোট আর সরকার গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন; আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হোক। এই নিয়ে আমরা আজকেও আলাপ আলোচনা করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা এটাও বলেছি, দেশের স্বার্থে অতীতেও আমরা একসাথে কাজ করেছি এবং আগামীতেও করবো। তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। আমরাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি।

সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরেও তার ছিল এক সংগ্রামী ও আপসহীন জীবন। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকারের জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। এই লড়াই করতে গিয়েই তার শেষ জীবনটা জেলে একাকী কাটাতে হয়েছে। সেসময় যারা দেশ শাসন করেছে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে অমানবিক আচারণ করেছেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তৎকালীন সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, তখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি, বরং উপহাস করেছে। তবে আল্লাহর বিচার, শেষ জীবনে তিনি বিদেশে চিকিৎসাও নিয়েছেন। কিন্তু ততদিনে তার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ব্রিটেন থেকে ফেরার পর তার স্বাস্থ্যের এতটাই অবনতি ঘটে যে, দেশেই তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন, জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।

বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ইতিহাসের এক বিরল সম্মান নিয়ে তিনি চলে গেছেন। গতকালের বিদায় সংবর্ধনায় মানুষ যেভাবে আবেগ ও চোখের পানি দিয়ে তাকে বিদায় দিয়েছে, তা তার পাওনা ছিল। জাতির জন্য তার অবদানের প্রতিদান তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকেই পেয়েছেন। এই পাওনা দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। আমরাও যদি জাতির জন্য এমন অবদান রাখতে পারি, হয়তো এদেশের মানুষ একদিন আমাদেরও এমন বিদায় দেবে।

ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও জাতীয় স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ বছরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কিছু করার চিন্তা করতে পারি কি না সেটাও আমাদের স্বার্থকতা। ম্যাডাম [বেগম খালেদা জিয়া] যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে দিয়ে গেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়েই আমরা যেন দায়িত্ব পালন করতে পারি। নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে আমরা আবারও বসবো, খোলা মনে কথা বলবো এবং জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব।

এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার পরিবার এবং বেগম জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

্রিন্ট

আরও সংবদ