খুলনা | শুক্রবার | ০২ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৮ পৌষ ১৪৩২

সাতক্ষীরায় নতুন বছরের প্রথম দিনে বই পায়নি মাধ্যমিকের ৭ম ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০১:৫২ এ.এম | ০২ জানুয়ারী ২০২৬


সাতক্ষীরায় কোন প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নতুন বছরের প্রথম দিনে ক্লাসে উপস্থিত তৃতীয় থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাই নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ¡সিত জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা। তবে ভিন্ন চিত্র মাধ্যমিক স্তরে। মাধ্যমিকের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু বই পেলেও কোন বই পায়নি ৭ম ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ফলে কোথাও আংশিক বই, কোথাও একেবারেই বই না পাওয়ায় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে মাধ্যমিকের বহু শিক্ষার্থীকে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে সাতক্ষীরার কয়েকটি সরকারি- বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্কুলে ভিড় জমাতে শুরু করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কোন প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নতুন ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন নতুন পাঠ্যবই। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে নতুন বই পেয়ে শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছ ব্যাপক উচ্ছ¡াস। সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্সি শোয়াইব হক বলে, নতুন বই পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। খুব সুন্দর রঙের বই। বাসায় নিয়ে মলাট বাঁধবো। শহরের জুবলি সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যায়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ নামের আরেক শিক্ষার্থী বলে নতুন বই নিয়ে অনেক আনন্দ লাগছে। বাসায় গিয়েই সব বই পড়ে ফেলবো।
সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান টুকু বলেন আমাদের স্কুলের তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির সব শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ বই পাওয়া গেছে। একই সাথে বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ২/১ টা বই বাদে প্রায় সব বই এসেছে। তবে ৭ম ও ৮ম শ্রেণির কোন বই না আসায় ওই দুই ক্লাসের শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের প্রথম দিনে কোন বই পায়নি।
তিনি আরো বলেন রাষ্ট্রীয় শোক চলায় এ বছর বই বিতরণে কোনো উৎসব করা হয়নি। ফলে কোন প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নতুন বছরের প্রথম দিনের শুরুতেই ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে রোল ধরে ডেকে ডেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বইয়ে কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ত্র“টি আছে কি না, তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখে নিতে বলা হয়। প্রথমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই দেওয়া হয়। এরপর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং পরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির বই দেওয়া হয়। 
সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন বলেন, চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি, তৃতীয় শ্রেণি, চতুর্থ শ্রেণি ও পঞ্চম শ্রেণির সম্ভাব্য ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৬ শিক্ষার্থীদের জন্য মোট পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা ছিল ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭টি বই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা শতভাগ বই পেয়ে যাই। সে অনুযায়ী জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সব বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্ব-স্ব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর কবির বলেন, আমাদের জেলায় ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট বইয়ের চাহিদা ছিল ২৮ লাখ ২০ হাজার ৯৩০। উক্ত চাহিদার বিপরীতে আমরা এ পর্যন্ত ১২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ বই হাতে পেয়েছি। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণির সব ও ৯ম শ্রেণির ২/১টা বাদে প্রায় সব বই পাওয়া গেছে। তবে ৭ম ও ৮ম শ্রেণির কোন বই আমরা এখনো হাতে পায়নি। তবে প্রতিদিন বই আসছে। বাকি বই হয়তো আগামী ২/১ দিনের মধ্যে পেয়ে যাবো। 

্রিন্ট

আরও সংবদ