খুলনা | শনিবার | ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৯ পৌষ ১৪৩২

জুমার দিনে খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৮ এ.এম | ০৩ জানুয়ারী ২০২৬


শোকের তৃতীয় দিনেও বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসেন সাধারণ মানুষ। কনকনে শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন বিএনপি’র নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শুক্রবার জুমআর নামাজের পর থেকে কবরস্থানে মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিতে সেখানে আসেন। সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর থেকেই কবর জিয়ারতে আগত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিকেলের দিকে মানুষের ভিড় আরো বাড়ছে। নারী, পুরুষ ও বয়স্কদের পাশাপাশি তরুণদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। অনেকে ফুল হাতে নিয়ে কবর জিয়ারত করছেন এবং নীরবে দোয়া পাঠ করেন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কবরস্থানের আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন। প্রবেশপথে তারা নজরদারি করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষকে সারিবদ্ধভাবে কবর জিয়ারতের সুযোগ করে দিচ্ছেন।
কবর জিয়ারত করতে আসা কয়েকজন জানান, তারা ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বিশ্বাস থেকে এখানে এসেছেন। অনেকে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অবদান স্মরণ করে দোয়া করছেন। কেউ কেউ নীরবে কিছু সময় কাটিয়ে স্থান ত্যাগ করছেন।
দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, আগামী দিনগুলোতেও মানুষের উপস্থিতি বাড়তে পারে। এ কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা আরো জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এড. এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ১১টায় মায়ের ডাকের সভাপতি ও ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা তুলি, বেলা সাড়ে ১১টায় ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান ও জিএস খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানান ’৯০ এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা। 
এছাড়া জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুসারীদের নিয়ে এসেছেন। আর কবরের পাশেই মাইকে বাজছে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত।
খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন কামাল ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমার নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে ধানমন্ডি থেকে এসেছি। তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
আব্দুল্লাপুর থেকে সজিব হোসেন তার পরিবার নিয়ে জিয়া উদ্যানে এসেছেন। তিনি বলেন, খালেদা কবর জিয়ারত করতে এসেছি।  
জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে সড়কে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও মাইক্রোবাস নিয়ে নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়।
তারা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। 
যশোরের অভয়নগর উপজেলা থেকে আসা রকিবুল হাসান বলেন, নেত্রীর বিদায় জানাজার দিন অফিস থাকায় আসতে পারিনি। বৃহস্পতিবারও চেষ্টা করেছিলাম আসার জন্য কিন্তু সুযোগ হয়নি। বন্ধ থাকায় রাতে রওনা হয়েছিলাম। শুক্রবার সকালে এসে ঢাকায় পৌঁছেছি। নেত্রীর কবর জিয়ারত করলাম। আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসিব করুক।
বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন মোখলেছুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমার নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে ধানমন্ডি থেকে এসেছি। তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। 
গেন্ডারিয়া থেকে মুজিবুল হক তার পরিবার নিয়ে জিয়া উদ্যানে এসেছেন। তিনি বলেন, খালেদা কবর জিয়ারত করতে এসেছি।  
জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে সড়কে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও মাইক্রোবাস নিয়ে নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়। তারা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যা দায়িত্ব পালন করছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুক্রবার দেশজুড়ে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়। তার স্মরণে দেশজুড়ে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।  
গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার থেকে ২ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। শোকের শেষ দিন গতকালও দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর বুধবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হয়। ছেলে তারেক রহমান স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে মাকে কবরে দাফন করেন। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে মরহুমার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

্রিন্ট

আরও সংবদ