খুলনা | শনিবার | ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৯ পৌষ ১৪৩২

চলতি অর্থ বছরের ৬ মাসে ৬৪ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য খালাস

এক কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য আমদানির লক্ষ্যমাত্র নিয়ে কাজ করছে মোংলা সমুদ্র বন্দর

মাহমুদ হাসান, মোংলা |
০২:১০ এ.এম | ০৩ জানুয়ারী ২০২৬


রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশ-বিদেশী পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে এগিয়ে যাচ্ছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। চলতি অর্থ বছরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানির লক্ষ্যমাত্র নিয়ে কাজ করছে বন্দরটি। ফলে এ বন্দরকে ঘিরে অর্থনীতিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সম্ভাবনাময় এ বন্দরটিকে ব্যবসায়ীরা সফল ভাবে ব্যবহার করলে মোংলা সমুদ্র বন্দর শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রস্থল হবে এ মোংলা সমুদ্র বন্দর।
বন্দর সূত্রে জানায় সময়ের সাথে সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দেশি বিদেশি আমদানি রপ্তানিকারকদের নজর এখন মোংলা সমুদ্র বন্দরের দিকে। অন্যান্য বন্দরের তুলনায় মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে খরচ কম এবং নৌ, সড়ক ও রেল পথে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শুরুতেই কন্টেইনারবাহীসহ সব ধরনের জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ-বিদেশি পণ্য আমদানির পাশাপাশি দেশে তৈরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক, যন্ত্রপাতি মোংলা বন্দর দিয়ে রপ্তানি করা হচ্ছে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। 
চলতি অর্থ বছরের  প্রাথম ৬ মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য নিয়ে ৪৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি কন্টেইনার বাহী জাহাজে করে বিভিন্ন  প্রকারের বিদেশী পণ্য আমদানি করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিলো, সেখানে চলতি বছরের ৬ মাসে ১৭ হাজার ৪০০ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। একই সাথে ৬ মাসে ১৬টি জাহাজে আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ২২২টি  জাপানী রিকিন্ডশন গাড়ি মোংলা বন্দর দিয়ে খালাস করা হয়েছে।
মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা, ইপিজেড এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, এতে সৃষ্টি হয়েছে অন্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। বন্দরে আমদানি-রপ্তাারি বৃদ্ধি পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে বন্দরের রাজস্ব আয়ও। 
মোংলা বন্দরের উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান বলেন, মোংলা বন্দর এখন বহুমুখী উন্নয়নের কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের  প্রচেষ্টায় উন্নয়ন, অগগতি আর অর্থনৈতিক সম্ভানা নিয়ে কাজ করছে সরকার। বেশ কয়েকটি বড় বড় মেঘা প্রকল্পের কাজ চলছে।  প্রকল্পগুলো শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জাহাজ বাড়বে, বাড়বে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সংখ্যা, বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব। যা থেকে দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।

্রিন্ট

আরও সংবদ