খুলনা | সোমবার | ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ | ২২ পৌষ ১৪৩২

আটক মাদুরোর ছবি প্রকাশ ট্রাম্পের, বেঁধে রাখা হয়েছে চোখ

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একের পর এক বিস্ফোরণ, আগুন, জরুরি অবস্থা জারি

খবর প্রতিবেদন |
০১:০৬ এ.এম | ০৪ জানুয়ারী ২০২৬


ভেনেজুয়েলার আটক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছবি প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে তাকে নিজ বাসভবন থেকে আটকের পর হেলিকপ্টারে এনে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজে তোলা হয়। সস্ত্রীক তাকে নেওয়া হচ্ছে ভেনেজুয়েলায়।
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ছাই রঙের ট্র্যাক স্যুট পরে আছেন মাদুরো। কালো বন্ধনী দিয়ে তার চোখ বাঁধা। হাতে রয়েছে একটি পানির বোতল।
এছাড়া তার কানে বিশালাকৃতির হেডফোনও আছে। মাদুরোর পাশে তার স্ত্রী রয়েছেন কিনা সেটি স্পষ্ট নয়। কারণ ট্রাম্পের প্রকাশিত ছবিতে তার স্ত্রীকে দেখা যায়নি।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন মাদুরো তাদের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ইও জিমাতে আছেন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, “তারা ইউএসএস ইও জিমা জাহাজে আছে, তারা জাহাজে। তাদের নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। হেলিকপ্টারে তাদের প্রথমে প্রাসাদ থেকে বের করে আনা হয়। তারা হেলিকপ্টারে খুব ভালো একটি ফ্লাইটে করে গেছেন-আমার বিশ্বাস তারা এই ফ্লাইট খুব পছন্দ করেছেন। কিন্তু মনে রাখুন, মাদুরো ও তার স্ত্রী অনেক অনেক মানুষকে হত্যা করেছেন।”
মাঝ রাতে ঘুমের মধ্যে বেডরুম থেকে আটক করা হয় মাদুরো ও তার স্ত্রীকে :  ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মধ্যরাতে ঘুমের মধ্যে বেডরুম থেকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দু’টি সূত্র সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ডেল্টা ফোর্স।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেনাদের অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। মার্কিন সূত্রটি বলেছেন, ডেল্টা ফোর্সের চালানো এ অভিযানে কোনো সেনা হতাহত হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন, যদিও তাদের আঘাত গুরুতর নয়। এছাড়া একটি হেলিকপ্টার হামলার শিকার হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে আটক হওয়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাম মাদুরো ও তার স্ত্রী যুদ্ধজাহাজে আছেন। তাদের নিউইয়র্কে আনা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “তারা ইউএসএস ইও জিমা জাহাজে আছে, তারা জাহাজে। তাদের নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। হেলিকপ্টারে তাদের প্রথমে প্রাসাদ থেকে বের করে আনা হয়। তারা হেলিকপ্টারে খুব ভালো একটি ফ্লাইটে করে গেছেন-আমার বিশ্বাস তারা এই ফ্লাইট খুব পছন্দ করেছেন। কিন্তু মনে রাখুন, মাদুরো ও তার স্ত্রী অনেক অনেক মানুষকে হত্যা করেছেন।”
হামলা : ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে স্থানীয় সময় শুক্রবার শেষ রাত থেকে বোমার  বিমানের ওড়ার আওয়াজ এবং একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটির কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরেছে এবং সেসব জায়গা থেকে উঠছে কালো ধোঁয়ার কুন্ডলি। কারাকাসের দক্ষিণ দিকে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ফরচুনা অবস্থিত। বিস্ফোরণের অধিকাংশ শব্দ এসেছে সেখান থেকেই। তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন সরকার।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনকে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানিয়ে দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি এই হামলাকে তার দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সামরিক বিমান ঘাঁটি লা কার্লোটা এবং প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উভয় স্থানে বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। শহরের ওপর দিয়ে বিমান উড়ছে বলে অনিশ্চিত খবর পাওয়া গেছে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি লুসিয়া নিউমান জানিয়েছেন, ফরচুনার ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় শুক্রবার শেষ রাত এবং শনিবার ভোরবেলায় সিরিজ বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণ শুরুর পর থেকেই ফরচুনা ও আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। 
আলজাজিরাকে লুসিয়া নিউম্যান বলেন, “ফরচুনা ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি। আমরা এখনও জানি না যে এই সিরিজ বিস্ফোরণের কারণ কী। এখানে অনেকে ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোতে সামরিক অভিযান শুর  করেছে। আবার অনেকে মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উৎখাত করার জন্য সেনাবাহিনীর সরকার বিরোধী কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ নাশকতা চালাচ্ছেন। এখনও নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।”
এদিকে কারাকাসে বিস্ফোরণ শুরুর পর মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগণে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু পেন্টাগণের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘকাল ধরেই টালমাটাল ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদুরো সরকারের সম্পর্ক ছিল চরম বৈরী। যদি ট্রাম্পের এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে।
উলে­খ্য, দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স¤প্রতি একাধিকবার ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের পক্ষে বলেছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিন চান ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যেন স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশ ছেড়ে চলে যান।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে যখন প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ট্রাম্প, সে সময় থেকেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করতেন তিনি। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ব্যাপারে তার মনোভাবের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার জাহাজগুলোর ওপর সর্বাত্মক অবরোধ জারি করেছেন। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বেশ কিছু ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ভেনেজুয়েলার যে কোনো ট্যাংকার জাহাজ দেশটির বন্দর ছেড়ে গেলে বা ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করার চেষ্টা করলেই সেগুলোকে জব্দ করা হবে।
গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার চারটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জাহাজগুলো তেল রপ্তানির কাজে ব্যবহার করা হতো। 
সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা, সিএনএন।

্রিন্ট

আরও সংবদ