খুলনা | সোমবার | ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ | ২২ পৌষ ১৪৩২

ঝিনাইদহে দুই প্রার্থীর বার্ষিক আয় অর্ধকোটির বেশি, অন্যদের ৪-৩ লাখ

খাইরুল ইসলাম নিরব, ঝিনাইদহ |
১১:৫৫ পি.এম | ০৪ জানুয়ারী ২০২৬


ঝিনাইদহের চারটি আসনে বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যে দু’জন কোটিপতি। তাদের মধ্যে সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামানের বার্ষিক আয় ৯৫ লাখ টাকা। আরেকজনের বার্ষিক আয় অর্ধকোটির বেশি। সবগুলো আসনে বিএনপি ও প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অন্য প্রার্থীর বার্ষিক আয় চার থেকে ১৩ লাখ টাকার মধ্যে। বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে এসব আসনে প্রার্খী রয়েছেন ২৩ জন।
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। নির্বাচনি হলফনামার তথ্য বলছে, আইন পরামর্শক, স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া, ব্যবসা, ব্যাংক আমানত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৯৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র, দু’টি প্রাইভেটকার, নগদ ও জমা অর্থসহ তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য পাঁচ কোটি টাকা। ঢাকায় জমি ও একাধিক ফ্ল্যাটসহ ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে তাঁর। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার কোনো ঋণ নেই। নেই কানো মামলা। আসাদুজ্জামানের কাছে নগদ ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮২ টাকা রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নিজ নামে গচ্ছিত রয়েছে এক কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮৬ টাকা; বন্ড, শেয়ার কেনা আছে ৫২০০ টাকার এবং ফিক্সড ডিপোজিট প্রায় ৩০ লাখ টাকার।
হলফনামায় নিজের ২০ ভরি সোনা রয়েছে বলে উলে­খ করেছেন সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল। এছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ছয় লাখ টাকা, আসবাবপত্রের মূল্য চার লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ফিক্সড ডিপোজিট দেখিয়েছেন ৩৩ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য উলে­খ করা হয়েছে ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪১ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য একই দেখানো হয়েছে। আসাদুজ্জামানের ঢাকার সাভারের বড় বরদেশী মৌজায় ৪৬২ শতাংশ জমি রয়েছে। যার মূল্য এক কোটি ৯ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। ঝিনাইদহের শৈলক‚পায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির কথা উলে­খ করা হয়েছে। তবে সম্পত্তি এখনো দখল বা সীমানা বুঝে পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকার উত্তরায় ৬ কাঠা জমিতে পাঁচ তলাবিশিষ্ট ভবন, একই এলাকায় ৫ কাঠা প্লটের ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনের এক তৃতীয়াংশের মালিকানা রয়েছে আসাদুজ্জামানের। যার মূল্য আট কোটি ১৫ লাখ ১১ হাজার ৬৪৮ টাকা। ধানমন্ডিতে দু’টি ফ্ল্যাটের এক তৃতীয়াংশের মালিকানা রয়েছে তার। যার আনুমানিক মূল্য ৫৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭ টাকা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ১১৪ মাটিকাটা এলাকায় তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১.৮০ শতাংশ জমি। যা তার স্ত্রী পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উলে­খ করা হয়েছে।
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবু সালেহ মোঃ মতিউর রহমানের কৃষি, শিক্ষকতা থেকে বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ ২৫ লাখ টাকার। স্থাবর সম্পদও ২৫ লাখ টাকার।
ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুন্ডু) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলের জেলা সভাপতি আব্দুল মজিদের ব্যবসা, কৃষি, সাইনিং মানিসহ বার্ষিক আয় ৫৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। মোটরযান, নগদ ও জমা অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ এক কোটি ৪৫ লাখ টাকার। ঢাকায় বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট সাতটি এবং ঝিনাইদহে ১১টি। স্থাবর সম্পদ ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার। ব্যাংক ঋণ এক কোটি ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মোঃ আবু বকরের কৃষি, ব্যবসা ও শিক্ষকতা থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ টাকা। নগদ অর্থ, মোটরযান, স্বর্ণসহ অস্থাবর সম্পদ ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পদ এক কোটি টাকার।
ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী মেহেদী হাসানের কৃষি, বাড়ি, সম্পত্তি ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে জমা অর্থ মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদ ১৮ লাখ টাকার। জামায়াত প্রার্থী মতিয়ার রহমানের কৃষি, ব্যবসা ও সম্পত্তি থেকে বার্ষিক আয় চার লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ ৩৯ লাখ টাকা।
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের চার ইউনিয়ন) আসনে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপি’র প্রার্থী হওয়া রাশেদ খান পেশা উলে­খ করেছেন ব্যবসা ও রাজনীতি। ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা। ৩৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৩০ ভরি স্বর্ণসহ অস্থাবর সম্পদ ৮১ লাখ টাকার। জাতীয় পর্যায়ের তরুণ এই নেতার ব্যক্তিগত গাড়ি, বাড়ি, প্লট ও জমি নেই বলে নির্বাচনি হলফনামায় উলে­খ করেছেন। রাশেদ খাঁনের ৩০ ভরি এবং স্ত্রীর ১০ ভরি সোনা রয়েছে। এসব সোনা উপহার হিসেবে পেয়েছেন। সোনার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৭ টাকা। যার বর্তমান মূল্য ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা। স্ত্রীর নামে সোনা, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাবপত্র ও উপহারসামগ্রীর অর্জনকালীন মূল্য উলে­খ করা হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজের ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য খাতে বার্ষিক আয় আট লাখ টাকা। নগদ ২৯ লাখ টাকাসহ ৫৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার স্বর্ণ ও গয়নার পরিমাণ ২২ ভরি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণ ৪৭ দশমিক ১৯ শতক। আসবাবপত্র ও কৃষিজমিসহ তার মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ৫৫ লাখ টাকা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব তার হলফনামায় জানিয়েছেন, কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে তার বাৎসরিক আয় সাত লাখ ৩৫ হাজার ৩৮২ টাকা। তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪০ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি উপহার হিসেবে পাঁচ ভরি স্বর্ণ পেয়েছেন। কৃষিজমি, আসবাবপত্র ও মোটরযানসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদ ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

্রিন্ট

আরও সংবদ