খুলনা | সোমবার | ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন : চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৬ এপ্রিল

বিশেষ প্রতিবেদক |
০১:২৯ এ.এম | ৩০ মার্চ ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের চূড়াš ভোটার তালিকা আগামী ৬ এপ্রিল প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন রোববার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 
ইসির উপ-সচিব বলেন, আইন অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দলগুলোর জোটগতভাবে নির্বাচন করবে নাকি করবে না, সে বিষয়ক কার্যক্রম শেষ করে। তার পরদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হয়। সেই হিসাবে আগামী ৫ এপ্রিল ৩০ কার্যদিবস শেষ হবে এবং ৬ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। 
তিনি জানান, সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। সেই হিসাবে আগামী ১৪ মে’র আগে যেকোনো দিন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত ১৮ ফেব্র“য়ারি নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন করে ফেলব আমরা। এজন্য ঈদের আগেই এই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হবে।’   
তবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় তপশিল বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধাš নেয়নি ইসি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আজ রাতে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, কবে নাগাদ এই তপশিল হতে পারে, সে বিষয়েও এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তারা।   
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, সংসদে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মোট আসন সংখ্যার আনুপাতিক হার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এরপর ইসি সচিবালয় রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে। পরবর্তীতে ইসির বৈঠকে অনুমোদনের পর নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়। দল ও জোটগুলো তাদের বরাদ্দকৃত আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ফলে অনেক সময় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হন।
আইন অনুযায়ী, সংসদে প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে প্রতিটি দলের নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে প্রতি ৬টি সাধারণ আসনের জন্য একটি করে নারী আসন পায় বিজয়ী দলগুলো। 
গত ১২ ফেব্র“য়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে আদালতে রিট মামলা চলমান থাকায় আইনি জটিলতায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রেখেছে ইসি। 
বাকি ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি আসন পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দুইটি আসন। খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং গণসংহতি আন্দোলন-এই পাঁচটি দল পেয়েছে একটি করে আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন। এরই মধ্যে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় সংসদে দলটির বর্তমান প্রতিনিধি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৮ জনে। এছাড়া বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।
এই হিসেবে বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ আসন বা ৩৫টি আসন পাবে। জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১টি আসন পাবে (যদি জোট করেন)। এনসিপি পাবে ১টি আসন। অন্য ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট না করলে কোনো আসন পাবে না। তবে জোট করলে পাবে ১টি আসন। এক্ষেত্রে বিএনপি’র আরও একটি আসন বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬টি। আবার জোটগতভাবে যদি নির্বাচন করে তাহলে বিএনপি ৩৫টি আসনই পাবে। তবে জামায়াতের দু’টি আসন বৃদ্ধি পেয়ে ১৩টি হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ