খুলনা | বুধবার | ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৩ পৌষ ১৪৩২

সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৩ পর্যটক উদ্ধার, আটক ৬

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:১৯ পি.এম | ০৫ জানুয়ারী ২০২৬


ঢাকা থেকে সুন্দরবন ভ্রমনে এসে বনদস্যুদের হাতে ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত দুই পর্যটকসহ রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্নয় যৌথ অভিযান চালিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন গাজী ফিশারিজ এলাকায় দস্যুদের জিম্মিদশা থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা কমান্ডার আবরার হাসান সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরের পর এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে দুই দফায় পৃথক স্থান থেকে আটক করা হয় দস্যু ও তার সহযোগিদের।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, গত (২ জানুয়ারি) শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবন সংলগ্ন অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গোল কানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় একটি কাঠের বোটযোগে ভ্রমনে যান রিসোর্ট মালিক ও মাঝি সহ ৭ জন পর্যটক। এসময় বনের ভিতরে চলে গেলে ডাকাত মাসুম মৃধার নেতৃত্বে একটি বনদস্যু দল তাদের জিম্মি করে ফেলে। পরে ওই ডাকাত দল নারীসহ ৩ জন পর্যটক ও মাঝিকে সন্ধ্যার পরে মুক্তি দিলেও জাহিদুল ইসলাম জনি ও সোহেল এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড় এই ৩ জনকে জিম্মি করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনকে অবহিত করে।

পর্যটক অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। অভিযান চলাকালীন গোপন সুত্রধরে ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মোঃ সালাম বক্স (২৪) এবং মেহেদী হাসান (১৯) কে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা হতে আটক করা হয়।

পরে আটককৃতদের দেয়া তথ্যমতে ৪ জানুয়ারি সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে ডাকাত সহযোগী আলম মাতব্বর (৩৮) কে আটক করে যৌথ বকাহিনী। একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা হতে গোয়েন্দা নজরদারি অনুসরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডু (৩০) কে নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়।

আটক দস্যুদের জিজ্ঞাসাবাদের পর (৪ জানুয়ারি) রবিবার সন্ধ্যা ৭ টায় সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা হতে ড্রোন সার্ভিলেন্স এর মাধ্যমে জিম্মিকৃত ২ জন পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ডের কাছে পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে আপহরণ ও মুক্তিপনের কথা স্বীকার করেছে সুন্দরবনের দস্যুবাহিনীর সদস্যরা। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় কোস্ট গার্ড।

তারা আরও বলেন, উদ্ধারকৃত পর্যটকদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং আটককৃত ডাকাত সহযোগীদের থানায় হস্তারের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডে অভিযান অব্যাহত থাকবে।  
 

্রিন্ট

আরও সংবদ