খুলনা | বুধবার | ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৪ পৌষ ১৪৩২

মোংলায় পর্যটক পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতী, দুর্ভোগে সুন্দরবনে ভ্রমনে আসা পর্যটকরা

মোংলা প্রতিনিধি |
০৫:৪৪ পি.এম | ০৫ জানুয়ারী ২০২৬


মোংলায় সুন্দরবনে পর্যটক পরিবহন নৌযানে নৌপরিবহন অধিদপ্তর (ডি জি শিপিং) সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হঠাৎ অভিযানের প্রতিবাদে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মোংলা নৌযান মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ সোমবার সকাল থেকে এ কর্মবিরতী শুরু করলে সকল ধরনের জালিবোট, ট্রলার ও পর্যটকবাহী নৌযান বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।

মোংলা জালিবোট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা জানায়, মোংলা উপজেলা ও বন্দর সংলগ্ন এলাকায় সুন্দরবনের পর্যটক পরিবহনের সাথে প্রায় আড়াই থেকে তিন শতাধিক জালিবোট, ট্রলার ও ডেনিস বোট জড়িত রয়েছে। কিছুদিন যাবত নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (ডিজিশিপিং) কর্মকর্তারা বোট মালিকদের উপর অন্যায় ভাবে নিরাপত্তার নামের বিভিন্ন সময় হয়রানি করে আসছে বলে অভিযোগ বোট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের।

তারা অভিযোগ করেন, মোটা অংকের টাকার বিনিময় লাইসেন্স ও সার্ভে করার নামে নতুন নতুন কাগজ পত্র তৈরী করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে ডিজিশিপিং কর্মকর্তারা। কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ রবিবার বিকালে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নৌযানের উপর অভিযান চালায়। এসময় ওই সকল নৌযানের সোফা, চেয়ার, ছাউনিসহ মুল্যবান মালামাল ভাংচুর করে এবং জোর পুর্বক কেটে ট্রাকবোঝাই করে নিয়ে যায়। নৌযান শ্রমিকরা বাধা দিতে গেলে তাদের হয়রানি করা সহ গ্রেফতার ও মামলা দেয়ার ভয় দেখানো হয় বলে জানায় নৌযান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।

ডিজিশিপিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হয়রানির প্রতিবাদের সোমবার সকাল থেকে সুন্দরবনের পর্যটক পরিবহন বন্ধ করে দেয় নেতৃবৃন্দরা। এতে অচল হয়ে পরে সুন্দরবনের পর্যটক পরিবহন ব্যবস্থা, জালি বোটসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। মুহুর্তের মধ্যে নিস্তব্ধ হয়ে যায় সুন্দরবনের নদ-নদী। সকাল থেকেই ঘাটে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা রয়েছে শত শত পর্যটকবাহী জালি বোট ও ছোট-বড় ট্রলার। বনের গহীন থেকে লোকালয় কোথাও নেই সেই পরিচিত ইঞ্জিন চালিত নৌযানের শব্দ। নৌযান মালিকদের আকস্মিক কর্মবিরতীর ফলে অচল হয়ে পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা পর্যটন ব্যবসা। নৌযান মালিকদের ঘোষণায় বন্ধ হয়ে আছে সকল ধরনের পর্যটক পরিবহন, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সুন্দরবন ভ্রমনে আসা দেশি-বিদেশি নারী-পুরুষ ও শিশু পর্যটকরা।

যশোর জিকারগাছা থেকে আসা স্বর্না আক্তার বলেন, পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকে গেছি। গাড়ি থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে অন্যাত্র বিনোদন কেন্দ্রে চলে যাচ্ছি।

ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবারসহ আসা আফরোজা বেগম বলেন, এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ, তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছিনা। কি করবো আর, ফিরে যেতে হবে এখন। অনেক আশা নিয়ে এসেছি সুন্দরবন দেখার জন্য, অনেক টাকাও খরচ হয়েছে। চুকনগর থেকে আসা রেজাউল করিম বলেন, আমরা এক বাসে ৫৪ জন এসেছি। এসে দেখি সুন্দরবনে যাওয়ার সকল নৌযান চলাচল বন্ধ। আমাদের সাথে অনেক শিশু ও বৃদ্ধারা রয়েছে। যদি সুনস্দরবন দেখতে না পারি, আর কবেই বা আসবো।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের নেতা মোঃ সোহাগ বলেন, ‘নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হয়রানির প্রতিবাদে নৌযান মালিকরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সব ধরণের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট করছে। প্রায় সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার এই ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে। অধিদপ্তর এমন কিছু ব্যয়বহুল শর্ত দিয়েছে যা পূরণ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। বছরের এই সময়ে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে সুন্দরবন। কিন্তু এখানকার বর্তমান ডিজি শিপিং কর্মকর্তারা তাদেরকে নানা রকম শর্ত দিয়েছে যে শর্তগুলো তাদের মেনে নৌযান চালানো সম্ভব নয়। তাই তারা বাধ্য হয়ে অস্থায়ী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, সোমবার ভোর থেকেই এখানে কোনও নৌযান ও পর্যটক আসতে পারছে না। শুনেছি নৌপরিবহন অধিদপ্তর রোববার পর্যটনবাহী নৌযানগুলো অভিযান চালায়। এই কারণে নৌযান মালিকেরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মোঃ রাশেদুল আলম বলেন, জালিবোটগুলোর উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার সার্থে যাতে বোটের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমন করে পুনসরায় তাদের গনস্তব্যে ফিড়ে যেতে পারে কোন দুর্ঘটনাকবলিত না হয়। মূলত আমাদের উদ্দেশ্য পরিবহন মালিকদের হয়রানি করা না, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বোটে ১৬ হর্স পাওয়ার কম ইঞ্জিনের বোট চালাতে শুধু ট্রেড রাইসেন্স ও পোর্ট ডিউস প্রয়োজন হয়। কিন্তু বোট সার্ভে নামে হয়রানি করছে ডিজিশিপিং বলে অভিযোগ বোট মালিকদের। 

্রিন্ট

আরও সংবদ