খুলনা | বুধবার | ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৪ পৌষ ১৪৩২

সাতক্ষীরায় কৃষি বিভাগের যৌথ অভিযান

বিপুল পরিমাণ ভেজাল সার ও তৈরির সরঞ্জাম জব্দ : ২ ব্যবসায়ীর আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেতদক, সাতক্ষীরা |
১২:৩৫ এ.এম | ০৬ জানুয়ারী ২০২৬


সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজার এলাকায় সার, বীজ ও বানাইনাশকের দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দস্তা ও টিএসপি সার, ভেজাল সার  তৈরির যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল এবং বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত  টানা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে এই  অভিযান পরিচালনা করা হয়। 
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভেজাল সার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে সুলতানপুর বড় বাজার এলাকার মেসার্স রবি এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ রবিউল ইসলামকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে, দুই মাসের বিনাশ্রম করাদন্ড এবং মেসার্স ইসলামী ইন্টারপ্রাইজের মালিক আশরাফুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে, একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। 
ভেজাল সারের বিরুদ্ধে এই অভিযান সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বদরুদ্দোজা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং একজন কৃষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজার এলাকায় সার, বীজ ও বালাইনাশকের দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানে দু’টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে ভেজাল সার তৈরির সরঞ্জাম ও প্যাকেটজাত ভেজাল সারসহ বিভিন্ন নামী-দামী কোম্পানির প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান ভেজাল সার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে, দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আশরাফুল ইসলামকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে, এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ তালিকা করে কৃষি অফিসারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কৃষি বিভাগ।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে নকল টিএসপি সার ৪ বস্তা, নকল বাসুডিন ১৩ বস্তায় ৬০ কার্টুন, সিজেনটা খালি প্যাকেট ২ কার্টুন, গ্রোজিংক ৭ বস্তায় ১৬ কার্টুন, ইউরিয়া ৫৪ বস্তা, বঙ্গ জৈব সার ২২ বস্তা, কোয়ালিটি জিংক ৭০ কার্টুন, ডি এ পি ২ বস্তা, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি’র খালি প্যাকেট ২০ বস্তা, গ্রোজিংক নকল ১৩৪ বস্তা (২৫ কেজি), আমেরিকান জিংক ৯২ বস্তা (২০ কেজি), টিএসপি জিংক ১৪ বস্তা (৫০ কেজি) এবং ডিএপি (ড্যাপ) ১১ বস্তা (৫০ কেজি)। 
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ভেজাল সার শুধু কৃষকের ক্ষতি করে না বরং মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। আমরা চাই দেশের প্রতিটি জেলায় মানসম্মত ও নিরাপদ সার সরবরাহ নিশ্চিত হোক। এই লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। কৃষকরা আশা করছেন ভবিষ্যতে এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হবে এবং নিরাপদ সার সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

্রিন্ট

আরও সংবদ