খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৫ পৌষ ১৪৩২

অবশেষে সন্তানের কবরের দেখা পেলেন মা, জড়িয়ে করলেন আদর

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫১ এ.এম | ০৬ জানুয়ারী ২০২৬


কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেওয়া ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হন বহু মানুষ। যাদের বেশির ভাগের অজ্ঞাত পরিচয়ে ঠিকানা হয়েছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে। আন্দোলনের উত্তাল ঢেউয়ে হারিয়ে যাওয়া স্বজনের খোঁজে ধারে ধারে ঘুরেছেন পরিবারের সদস্যরা। জুলাই যোদ্ধাদের নানা কর্মসূচিতে নিখোঁজ স্বজনের ছবি হাতে দাঁড়িয়েছেন তারা। প্রিয় মানুষটি জীবিত না থাকলেও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য অন্তত কবরটি হলেও দেখার আকুতি জানিয়ে আসছিলেন স্বজনরা। অজ্ঞাত স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
দীর্ঘ এক মাসের চেষ্টায় রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা অজ্ঞাত শহীদদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। সোমবার সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ ও অন্তর্র্বতী সরকারের একাধিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে স্বজনদের কবর বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ দেড় বছর পর প্রিয় সন্তানের কবরের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়েন উত্তরায় নিহত ফয়সাল সরকারের মা হাজেরা বেগম, যাত্রাবাড়ীতে নিহত সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম, মাহিমের মা জোসনা বেগম ও স্ত্রী। এ সময় রায়েরবাজার কবরস্থানে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
যাত্রাবাড়ীর কাজলায় আন্দোলনে গিয়ে নিহত সোহেল রানার মা ছেলের কবরের সামনে গিয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ছেলের নানা স্মৃতি তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, বাবা তুই আমাকে কিছুই বলে গেলি না। আমার পায়ে তেল মালিশ করে ঘুমিয়ে রেখে গেলি। বাবা, আর তোরে পাইলাম না।
মা রাশেদাসহ ৮ শহীদের স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের কবর পেয়ে কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ মাটি ছুঁছেন, কেউ কবরে লাগানো গাছে হাত বুলাচ্ছেন। সবার চোখের পানিতে ভাসছিল নানা স্মৃতি। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

্রিন্ট

আরও সংবদ