খুলনা | সোমবার | ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা

সরকার ২শ’ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে : গভর্নর

বিশেষ প্রতিবেদক |
০১:৪৩ এ.এম | ৩০ মার্চ ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে (বিওপি) সমর্থন দিতে ২০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। আইএমএফ এবং অন্যান্য কয়েকটি উৎস থেকে এই ঋণ নেওয়ার প্রাথমিক আলোচনা চলছে। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান রোববার অর্থনীতি বিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের উত্তরে ওই তথ্য দেন। তবে তিনি বলেন, সতর্কতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশ যাতে এই অবস্থায় ভালো থাকে, সেই চেষ্টা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রাক্কলনের ভিত্তিতে নানা বিষয় আলোচনা হচ্ছে। সব কিছুই যে সিদ্ধান্ত আকারে আসবে, তাও নয়। 
বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এই সভায় জ্বালানি তেলের বাড়তি দর এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে গভর্নর বলেন, এই মুহূর্তে দ্রুত সমাধান নেই। প্রথমত, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। দ্বিতীয়ত, খরচ যতটুকু সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রেখে মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়া দরকার। সরকারের চেষ্টা আছে, দ্বিপক্ষীয় কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু করা যায় কিনা। সরকার নানা উৎস থেকে জ্বালানি নেয়। কোন জায়গা থেকে কি সুবিধা পাওয়া যায় সরকার দেখছে। 
তিনি বলেন, সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হচ্ছে, জ্বালানি তেলের মূল্য কতটুকু বাড়লে  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কেমন প্রভাব পড়বে। প্রভাব অবশ্যই পড়বে। জ্বালানি আমদানির জন্য যাদের সঙ্গে স্থির মূল্যে চুক্তি আছে, সেখানে হয়তো সমস্যা হবে না। 
প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থের যোগান পেতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আইএমএফ সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে গত সপ্তাহে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। পরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বতী সরকারের সময় গত বছরের জুনে ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে এ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। বাকি রয়েছে ১৮৬ কোটি ডলার। আগামী জুলাই মাসে ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ছাড় পেতে পারে বাংলাদেশ।
গতকালকের আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আরও বলেন, তার কাছে সব সময় মনে হয়েছে, আর্থিক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। তিনি চেষ্টা করছেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ যাতে আর্থিক খাতে না আসে। 
পাচার করা অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই এ বিষয়ে বৈঠক করছি। অবশ্য চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারের সাফল্যের বৈশ্বিক হার খুব সামান্য। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা এ বিষয়ে বাইরের যে এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করছি, তার সঙ্গে অধিকাংশ ব্যাংকের চুক্তি হয়ে গেছে। মূলত ব্যাংকের যেসব অর্থ পাচার হয়েছে, সেগুলো আদায়ের জন্য এই প্রচেষ্টা। 
গভর্নর বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার মাধ্যমে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমানের অন্যতম নীতি। এ জন্য কৃষি ও এসএমএই খাতে গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া আগে থাকা বন্ধ এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বন্ধ ফ্যাক্টরির জায়গাগুলোতে উৎপাদন শুরু করতে সহায়তা দেওয়া অন্যতম অগ্রাধিকার। 
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. হাবিবুর রহমান, জাকির হোসেন চৌধুরী, ড. কবির আহমেদ এবং মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ