খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৪ পৌষ ১৪৩২

তারেক রহমানের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলেই ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে

খবর প্রতিবেদন |
১২:৫৫ এ.এম | ০৭ জানুয়ারী ২০২৬


বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। নির্বাচন, নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোসহ দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে বলেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বড় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে বলে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। 
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিগত কয়েকটা নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। এই নির্বাচনটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, শান্তিপূর্ণ হবে এবং জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা এখানে প্রকাশিত হবে। এটা ধারনা করেই এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটা বড় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনই ব্যক্ত হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার আসবে, সেই সরকারকে অধিকতর সহযোগিতা করবে। 
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের একটা অংশীদার। বাংলাদেশে যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এই নির্বাচনে তারা বেশ বড় একটা নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়েই আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তারা কথা বলতে এসেছিলেন। খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। 
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনটা যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার দাবিটা বিএনপি’রই ছিল। নির্বাচন যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য বিএনপি’র যে আগ্রহ তিনি তা ইইউর প্রতিনিধি দলের কাছে ব্যক্ত করেছেন। তিনি এটাও বলেছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ভোট দিতে পারেননি। তারা অধীর আগ্রহে আছেন ভোট দেওয়ার জন্য। একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে দেশের মানুষ তাদের মনের যে ইচ্ছা বা আকাক্সক্ষা ভোট দেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করবেন।
নির্বাচনে বিএনপি’র সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং এর জন্য যা যা প্রস্তুতি নেওয়ার তা সম্পন্ন করেছে বলে জানান বিএনপি’র এই নীতি নির্ধারক।
নজরুল ইসলাম বলেন, আসন্ন নির্বাচন কেমন হতে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের ভূমিকা কেমন ও কি থাকবে এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে কি ভাবনা-চিন্তা-তা জানতে চেয়েছে। এব্যাপারে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই নির্বাচন যতদ্রুত করার দাবিটা মূলত আমাদের ছিল। আমরা চাচ্ছি, এই নির্বাচন যতদ্রুত সম্ভব, অর্থাৎ যে তারিখ নির্ধারিত আছে, সেই তারিখেই যেনো হয়। শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু যেনো হয়। এবিষয়ে বিএনপির যে প্রতিশ্র“তি, এটা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 
তিনি আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন নির্বাচনে অংশ নিতে ও ভোট দিতে পারেনি। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যে, একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। সেখানে তারা অংশগ্রহণ করবে এবং তাদের ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করবে। এটার জন্য আমরাও অপেক্ষা করছি। নির্বাচন আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। এজন্য যা যা প্রস্তুতি নেয়ার, এগুলোও আমরা নিয়েছি এবং কাজ করছি।
বাংলাদেশের উন্নয়নের ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে অবদান, সেজন্য বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলেও জানান নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশা করছে এবং তাদের অনুরোধও করেছেন-আগামীদিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যাতে আরও বেশি সহযোগিতা করে, যাতে বাংলাদেশের জনগণ উপকৃত হয়। তারা বলেছেন যে, আরও অধিক সহযোগিতা নিয়ে আগামীদিনে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে।  
সাক্ষাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। 

্রিন্ট

আরও সংবদ