খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৫ পৌষ ১৪৩২

ভয়াবহ সহিংসতা-মসজিদে ভাঙচুরে উত্তপ্ত নেপাল, সীমান্ত বন্ধ করলো ভারত

খবর প্রতিবেদন |
১২:৫৭ এ.এম | ০৭ জানুয়ারী ২০২৬


ভারতের সীমান্তঘেঁষা নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সা¤প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মসজিদে ভাঙচুরের পর উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটিতে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপালের সহিংসতার জেরে দেশটির সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিবেশী ভারত। মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মসজিদে হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে ওই বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করায় ভারতের বিহারের রক্সৌল জেলার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত নেপালের বীরগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
নেপালের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মাঝেই জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।
দেশটির ধানুশা জেলার কামালা পৌরসভায় হায়দার আনসারি ও আমানত আনসারি নামে দুই মুসলিম ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য ছিল। ভিডিওটি দ্রুতই ধানুশা ও পারসা জেলায় সা¤প্রদায়িক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।স্থানীয়রা পরে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাদের দাবি, ভিডিওটি সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই কামালার সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে ভাঙচুর করা হয়; যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
পুলিশের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, ধানুষা জেলার কমলা মিউনিসিপ্যালিটির সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে ভাঙচুর চালায় একদল দুষ্কৃতিকারী। এই ঘটনার ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে পার্সা জেলার বীরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ধানুষা জেলার ঘটনায় বীরগঞ্জে প্রতিবাদে নামেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একটি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রায় ছয় রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সোমবার বিকেলে জেলার কিছু অংশে নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও বিক্ষোভ চলতে থাকলে কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করে। প্রাথমিকভাবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কারফিউ দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন দেশটির বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন অভিযোগ করে, তাদের দেবদেবীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে; যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে। এই ঘটনার পর সেখানকার বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিক্ষোভ সহিংস হয়ে আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ ও স্থানীয় থানায় ভাঙচুর চালান। পুলিশ বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে প্রায় অর্ধডজন কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং বীরগঞ্জে কারফিউ জারি রয়েছে।
বীরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভারত-নেপাল সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) নেপালের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
জরুরি পরিষেবা ছাড়া সীমান্ত দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। ভারত ও নেপালকে সংযুক্ত করা মৈত্রী সেতুতে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সীমান্ত পার হওয়া প্রত্যেককে কঠোরভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে সীমান্তে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করেছে ভারত।
এসএসবি কর্মকর্তারা ও দেশটির অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, মৈত্রী সেতুর পাশাপাশি সহাদেওয়া, মহাদেওয়া, পান্তোকা, সিওয়ান টোলা ও মুশারওয়া এলাকাতেও টহল বাড়ানো হয়েছে। যে কোনও ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঠেকাতে এসব এলাকায় প্রত্যেকটি কার্যকলাপ নিবিড় ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।
নেপাল থেকে দেশে ফিরছেন ভারতীয়রা : নেপালে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে কর্মরত বহু ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিক দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করা ভারতীয় নাগরিক রাকেশ এনডিটিভিকে বলেন, বীরগঞ্জে সব দোকানপাট ও বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সেখানে থাকার কোনও মানে হয় না।তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজে ফিরব। তার আগে সেখানে থাকার কোনও অর্থ নেই। 
এদিকে নেপালে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) পুরো সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের সব সীমান্ত যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে ভারত-নেপাল সংযোগকারী মৈত্রী ব্রিজেও। সীমান্ত পার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির কড়া তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে সেখানে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হয়েছে। 
সূত্র: এনডিটিভি।

্রিন্ট

আরও সংবদ