খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৫ পৌষ ১৪৩২

মাগুরায় ‘গরুচোর’ সন্দেহে গণপিটুনিতে সাইপ্রাস ফেরত ব্যক্তি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৫:০১ পি.এম | ০৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদা বাজারে গরুচোর সন্দেহে মো. আকিদুল (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আকিদুল মাগুরা সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামের শহর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে ইছাখাদা বাজার এলাকায় গরু চুরির সন্দেহে স্থানীয়রা আকিদুলকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সকাল ৯টার দিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী অজিফা খাতুন জানান, আকিদুল দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলেন এবং মাত্র পাঁচ মাস আগে সাইপ্রাস থেকে দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় একটি সবজির আড়তে কাজ করতেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে তিনি ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ভোর ৪টার দিকে ইছাখাদা বাজারে নেমে তিনি তার ছেলেকে ফোন করে সেখানে আসতে বলেন।

অজিফা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘মনিরুল নামের এক ব্যক্তি আমার স্বামীর ফোন থেকে কল করে জানায় যে আকিদুল গরু চুরি করেছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় ইছাখাদা পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে বেঁধে মনিরুল, লিয়াকতসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।’

তিনি আরও দাবি করেন, তার স্বামী কোনোভাবেই চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পূর্বশত্রুতা ও চাঁদাবাজির জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমাইয়া আফরিন জানান, সকাল ৯টার দিকে আকিদুলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার মাথার চুল কেটে নেওয়া হয়েছে এবং পা ভাঙা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, ‘আঠারোখাদা ইউনিয়নের মালন্দ গ্রাম থেকে একটি গরু চুরি করে পালানোর সময় স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া দিয়ে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’

তিনি আরও জানান, একটি গরু বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

্রিন্ট

আরও সংবদ