খুলনা | সোমবার | ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২

কেসিসি প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান উন্নয়ন কমিটির

খুলনাকে মডেল পরিকল্পিত পরিবেশ বান্ধব পরিচ্ছন্ন আধুনিক নগরী গড়ে তোলার দাবি

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:০৫ এ.এম | ৩০ মার্চ ২০২৬


খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন খুলনা সিটিকে মডেল পরিকল্পিত পরিবেশ বান্ধব পরিচ্ছন্ন আধুনিক নগরীতে পরিণত করতে আমি খুলনাবাসীর সহযোগিতা চাই। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমি নগরবাসীর পরামর্শ কামনা করি।
রোববার বিকেল ৪টায় বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে কেসিসি প্রশাসকের সাথে কেসিসির সেমিনার রুমে মতবিনিময় ও স্মারকলিপি প্রদান কালে নজরুল ইসলাম মঞ্জু একথা বলেন। 
উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে খুলনার উন্নয়নের জন্য ২১ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন আশা করি কেসিসি প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের মধ্যে তিনি আমাদের দাবি সমূহ বাস্তবায়নে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 
প্রশাসক বলেন খুব শিগগিরই খুলনার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা খুলনার নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করবো। উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ কেসিসিকে দুর্নীতিমুক্ত একটি নাগরিক বান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার দাবি জানান।
দাবি সমূহ : ১। খুলনা জিয়া হলের স্থলে বহুমাত্রিক দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হবে। ২। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে রাস্তা-ঘাট সংস্কারের পাশাপাশি নগরীর রাস্তাগুলোকে প্রশস্ত করতে হবে। ৩। নগরীতে আরও মানসম্মত ইংরেজি ও বাংলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। ৪। আড়ংঘাটা, লবণচরা, হরিণটানা থানা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করে খুলনা শহরকে আরও স¤প্রসারণ করতে হবে। ৫। বনায়ন প্রকল্প গ্রহণ করে খুলনা নগরীকে পরিবেশ বান্ধব নগর হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। ৬। ফুটপাত হকারমুক্ত করে তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। ৭। ময়ূর নদী সংস্কার, নদীতে জোয়ার ভাটার প্রবাহ তৈরি করাসহ নগরীর ২২টি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। ৮। শহরতলীর খালগুলো খনন করতে হবে এবং অতি বৃষ্টির সময় পাম্প চালিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে। ৯। স্বাস্থ্যখাতের উন্নতির জন্য প্রতি ওয়ার্ডে মেটারনিটি ক্লিনিকের পাশাপাশি একটি নগর জেনারেল হাসপাতাল বাস্তবায়ন এখন খুলনার মানুষের প্রাণের দাবি। ১০। নদী বেষ্টিত খুলনার চারিপার্শ্বে অবৈধ দখলমুক্ত করে শহর রক্ষা বাঁধ, রিভারভিউ পার্ক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করতে হবে। ১১। খুলনার পার্কগুলো সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। পুরাতন পুকুরগুলো যাতে বন্ধ করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ১২। জীবনের ঝুঁকি আছে এ ধরনের পুরাতন বিল্ডিংগুলো ভাঙার ব্যবস্থা করতে হবে। ১৩। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে বাইপাস সড়ক দ্রুত সংস্কার করতে হবে। ১৪। মহানগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১৫। রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়াকে খুলনা শহরের সাথে সংযোগের জন্য টানেল নির্মাণ করতে হবে।  ১৬। খুলনা রেলওয়ের ২৭৩ একরের মধ্যে ১৭৩ একর অব্যবহৃত জমি অবৈধ দখলমুক্ত করে পরিকল্পিত শপিং কমপ্লেক্স, হাসপাতাল ও আবাসন প্রকল্প গ্রহণের দাবি। ১৭। খুলনায় অবৈধ পরিকল্পনাহীন আবাসন প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১৮। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কেসিসিকে নাগরিক বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। ১৯। খুলনাকে একটি মডেল সিটি ও শহরকে ট্রাফিক সিগনাল বাতির ব্যবস্থা করে যাজট নিরসন করতে হবে। ২০। মশক নিধন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২১। সকল ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত সড়ক বাতির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদান ও মতবিনিময় কালে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান, মহাসচিব এড. শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নিজামউর রহমান লালু, মিনা আজিজুর রহমান, শাহীন জামাল পন, সাংবাদিক অধ্যাপক মোঃ আবুল বাসার, মিজানুর রহমান বাবু, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম, সরদার রবিউল ইসলাম রবি, মোল্লা মারুফ রশীদ, সৈয়দ এনামুল হাসান ডায়মন্ড, প্রফেসর সেলিনা বুলবুল, শেখ আরিফ নেওয়াজ, বিশ্বাস জাফর আহমেদ, জি এম রেজাউল ইসলাম, রকিব উদ্দিন ফারাজী, প্রকৌশলী রফিকুল আলম সরদার, প্রকৌশলী সেলিমুল আজাদ, মোঃ ইলিয়াস মোল্লা মোঃ সফিকুর রহমান, শিকদার আব্দুল খালেক, মোঃ আব্দুস সালাম, এড. কুদরত ই খুদা, মোরশেদ উদ্দিন, অধ্যাপক অজন্তা দাস, নাজমুল আজম ডেভিড, এস কে তাছাদ্দুকুজ্জামান হোসেন, এড. এস এম মারুফ আহমেদ, এড. জাহাঙ্গীর আলম, মোস্তফা শরিফুল ইসলাম, মোঃ হেমায়েত উদ্দিন ও মোঃ জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ