খুলনা | শুক্রবার | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৫ পৌষ ১৪৩২

শীতার্ত দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান

|
১২:১১ এ.এম | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬


দেশের ১০ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ চলছে। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সপ্তাহখানেক ধরে চলা এই তীব্রশীতে কাঁপন ধরেছে সারা দেশেই।
কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে সকালের অনেকটা সময়। নৌযান ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে মাঝরাত থেকে প্রায় দুপুর পর্যন্ত। অনেক স্থানে দিনেও গাড়ি চালাতে হয় হেডলাইট জ্বালিয়ে। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।
যানজটও দেখা দিচ্ছে। বিমানের ওঠানামাও ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া প্রায় একই রকম থাকতে পারে।
টানা কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে রাজধানীসহ দেশের একটি বড় অংশ। সারা দিনেও সূর্যের দেখা মিলছে না। সেই সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। সবচেয়ে বেশি শারীরিক সমস্যায় ভুগছে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতালে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভোগা মানুষের ভিড়।
শীতের প্রকোপ বাড়ায় ঠাণ্ডাজনিত জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। কয়েকটি এলাকায় কোল্ড ডায়রিয়ার  প্রকোপ দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর আবহাওয়া ক্রমে চরম ভাবাপন্ন হয়ে পড়ছে। অর্থাৎ শীতকালে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা কিংবা গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম পড়তে পারে। ঝড়ঝঞ্ঝাও বেশি হতে পারে। শীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র শ্রেণির মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বৃৃুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুদ্ধরা। অনেকেরই থাকার ভালো ঘর নেই। ভাঙা বেড়ার ঘরে শীতের কনকনে বাতাস হু হু করে ঢুকে পড়ে। গরম জামা-কাপড়েরও অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে আছে দরিদ্র মানুষের পুষ্টির অভাব ও রক্তাল্পতা। তারাই তীব্র শীতের শিকার বেশি হয়। চলতি শৈত্যপ্রবাহে তাদের রক্ষার বড় কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। শহরের ভাসমান মানুষও এ সময় অত্যন্ত বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের না আছে থাকার ঘর, না আছে গরম জামা-কাপড়। এই অবস্থায় দরিদ্র মানুষের সহায়তায় সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা খুবই জরুরি।
অধিক শীতে কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ যেসব রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়ে যায়, সেগুলো মোকাবেলায় জরুরিভিত্তিতে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন। বিনা চিকিৎসায় যেন কেউ মারা না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
তাৎক্ষণিকভাবে দরিদ্র ও ভাসমান মানুষের জন্য গরম কাপড় ও কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নিতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে অতিদরিদ্র মানুষের জন্য স্থায়ী ও মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।
 

্রিন্ট

আরও সংবদ