খুলনা | শুক্রবার | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৫ পৌষ ১৪৩২

রাশিয়ার রণতরিকে পাত্তাই দিলো না যুক্তরাষ্ট্র, জব্দ হলো তেলের জাহাজ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪১ এ.এম | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬


আটলান্টিক মহাসাগরে ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট এবং রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘মেরিনেরা’ নামের এই জাহাজটি মূলত ‘বেলা-১’ নামে পরিচিত ছিল। উলে­খ্য, এই জাহাজটি রক্ষায় রাশিয়া সাবমেরিনসহ একটি বিশেষ নৌবহর পাঠিয়েছিল, যা মার্কিন কমান্ডোরা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে। 
বুধবার মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সির। 
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মার্কিন ‘নিষেধাজ্ঞা’ লঙ্ঘনের দায়ে জাহাজটিকে স্কটল্যান্ডের উত্তরে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করার আগে জাহাজটিকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এই অভিযানে মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই অভিযান সফল করতেই গত কয়েকদিন ধরেই আশপাশের এলাকায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়।
আটলান্টিকে রুশ জাহাজ জব্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ক্যারিবীয় সাগর থেকে ‘এম/টি সোফিয়া’ নামের আরও একটি তেলবাহী জাহাজ আটকের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড। এই জাহাজটিকে ‘রাষ্ট্রহীন’ এবং ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে তেল পাচারের অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়। এক ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মার্কিন বাহিনীর এই জয়জয়কার ওয়াশিংটনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির জানান দিচ্ছে।
রুশ পতাকাবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক লুঠতরাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। অন্যদিকে, রাশিয়া তাদের নৌবহর থাকা সত্তে¡ও জাহাজটি রক্ষা করতে না পারায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। 
মার্কিন ফেডারেল আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র এবং নবগঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ এই পুরো অভিযানে সমন্বয় করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘শিপিং ব্লকড’ নীতি মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি নৌ-সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুললো।
তেলবাহী জাহাজ জব্দের এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস। মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের জন্য তাকে ইতোমধ্যেই মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

্রিন্ট

আরও সংবদ