খুলনা | শুক্রবার | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৫ পৌষ ১৪৩২

হাসপাতালগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

নিপাহ ভাইরাস ৩৫ জেলায় আক্রান্ত হলেই মৃত্যু

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৫ এ.এম | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬


দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এর আগে ২০২৫ দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। তাদের সবার শরীরেই পরীক্ষার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন রোগীর মৃত্যু হয়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর রেকর্ড করা চারটি কেসের সব কটিতেই ১০০ শতাংশ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ পাওয়া গেছে।
বুধবার দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এসব তথ্য জানান।
আইইডিসিআর জানিয়েছে, এর আগের বছর ২০২৪ সালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ওই বছর মোট পাঁচজনই এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন।
সভায় আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, প্রতিবছর শীতকালে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়। এটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ভাইরাস। আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৭২ শতাংশের মৃত্যু ঘটে। তিনি জানান, দেশে সাধারণত শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ায়।
তিনি আরও বলেন, নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
উপস্থাপিত প্রবন্ধে দেখা যায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী এই চার জেলায় চার নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও অ্যালার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপের সমন্বয়কারী ডাঃ সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায় সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত চারজনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার শতভাগ)। এছাড়া বিশ্বজুড়ে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ।
ডাঃ সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতেই প্রতি বছরের মতো এবারও এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের সবারই মৃত্যু হয়েছিল।
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় : কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না; আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে; ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে; নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে; আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

্রিন্ট

আরও সংবদ