খুলনা | শুক্রবার | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৫ পৌষ ১৪৩২

ঘুষের লাখ টাকাসহ যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক ‎

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর |
০২:০৩ এ.এম | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬


মৃত স্ত্রীর পেনশনের ফাইল ছাড় করাতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলমকে এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুদকের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।
দুদক সূত্র জানায়, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট মারা যান। মৃত্যুর পর অবসরকালীন আজীবন পেনশনের জন্য তার স্বামী ও স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ নুরুনবী গত বছরের ৩০ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম নুরুনবীকে দফায় দফায় হয়রানি করতে থাকেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পেনশনের ফাইলে স্বাক্ষর না করে গড়িমসি করেন। একপর্যায়ে ফাইল ছাড়ের জন্য তিনি এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এই ঘটনায় নুরুনবী যশোর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনে বুধবার বিকেলে একটি টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান নেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নুরুনবী ঘুষের টাকা প্রদান করলে সন্ধ্যায় দুদক সদস্যরা টাকাসহ মোঃ আশরাফুল আলমকে হাতেনাতে আটক করেন। নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওই টেবিলের ড্রয়ার থেকে ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ সালাহউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ নুরুন্নবী বলেন, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর তার স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর পেনশনের টাকার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। দীর্ঘদিন তিনি নানা ভাবে তাকে ঘোরাতে থাকেন। বাধ্য হয়ে তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৮০ হাজার টাকা দেন। তবে শিক্ষা কর্মকর্তা আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি ওই টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। তবে টাকা না দিলে পেনশনের টাকা ছাড় করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন শিক্ষা কর্মকর্তা। তা ছাড়া তার স্ত্রীর বেসিকও কমিয়ে দেন শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুনবী বলেন, মৃত স্ত্রীর পেনশনের ফাইল স্বাক্ষরের জন্য অসংখ্যবার জেলা কর্মকর্তার দপ্তরে গেছি। তিনি আমাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে শাস্তিস্বরূপ ঝিকরগাছা থেকে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। এমনকি পা ধরে অনুনয় করলেও তিনি হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে ঘুষের টাকা নিয়ে তার দপ্তরে আসলে দুদক তাকে আটক করে।
দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়ে অবহিত করা হয়। অনুমোদন সাপেক্ষে অভিযান পরিচালনা করে ঘুষের টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় দুদক কার্যালয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোঃ আল-আমিন আরও জানান, এ ঘটনায় দুদক যশোর কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে এবং আটক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

্রিন্ট

আরও সংবদ