খুলনা | শুক্রবার | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৬ পৌষ ১৪৩২

শেষবার মাঠ ছাড়ার আগে সিজদায় অবনত উসমান খাজা

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৩:২৮ পি.এম | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬


সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে উসমান খাজার বিদায়ী টেস্ট পরিণত হয়েছিল আবেগঘন এক দৃশ্যে। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তার স্ত্রী র‌্যাচেল খাজা। ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্ত দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে খাজার পথচলা, ত্যাগ আর সংগ্রামের ছবিটাই যেন ফুটে উঠেছিল র‌্যাচেলের চোখের জলে। দর্শকদের করতালির সঙ্গে মিশে যায় সেই আবেগ।

শেষ ইনিংসের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। উইল জ্যাকসের বলে সুন্দর এক ফ্লিকে চার মেরে রানের খাতা খোলেন খাজা। কিন্তু গল্পটা বেশি দূর এগোয়নি। জশ টাংয়ের বলে চপড অন হয়ে ১৭ রান করে ফিরে যান তিনি।

তবু মাঠ ছাড়ার সময় সম্মান জানাতে কার্পণ্য করেননি দর্শকরা। দাঁড়িয়ে করতালিতে ভাসানো হয় এই অভিজ্ঞ ওপেনারকে। মাঠ ছাড়ার আগে খাজা হাঁটু গেড়ে মাঠে চুমু খান, সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে অবনত হন সিজদায়। বিদায়ের মুহূর্তে আবেগে ভেসে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছতে দেখা যায় র‌্যাচেলকে।

খেলা শেষে নিজের শেষ টেস্ট ইনিংস নিয়ে অনুভূতির কথা বলেন খাজা। হতাশা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা- সব মিলিয়ে আবেগের এক রোলার কোস্টারের কথা উঠে আসে তার কথায়। খাজা বলেন, “চপড অন হয়ে আউট হওয়ায় একটু বিরক্তি ছিল। সব সময় রূপকথার মতো শেষ পাওয়া যায় না। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটা কাটিয়ে উঠি। তারপর র‌্যাচেলের দিকে তাকাই। পরিবার গ্যালারিতে ছিল, ওদের দিকে চুমু ছুড়ে দিই।”

স্ত্রীর অবদানের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ও না থাকলে আমি আজ এখানে থাকতাম না। মানসিক, আবেগিক- সব দিক থেকে ও-ই আমার সবচেয়ে বড় ভরসা। শেষবার মাঠ ছাড়ার সময় সেটাই ছিল আমার ধন্যবাদ জানানোর উপায়।” ৩৯ বছর বয়সী খাজাওয়া টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করলেন ৬ হাজার ২২৯ রান নিয়ে, গড় ৪৩.২৫। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি আছেন ১৪ নম্বরে।

সিডনিতেই ক্যারিয়ার শেষ হওয়াটা তার জন্য ছিল বিশেষ। এই মাঠেই ২০১০-১১ অ্যাশেজ সিরিজে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তার। সেই ম্যাচে করেছিলেন ৩৭ ও ২১ রান। শান্ত, ধীরস্থির ব্যাটিং যা পরে হয়ে ওঠে তার পরিচয়। ইসলামাবাদে জন্ম নেওয়া খাজা ছোটবেলায় পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। পরে তিনি হয়ে ওঠেন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাকিস্তান-জন্ম নেওয়া ও প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার।

৮৮টি টেস্টে ১৬টি সেঞ্চুরিসহ তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের ভরসা। পাশাপাশি খেলেছেন ৪০টি ওয়ানডে ও ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। মাঠের ভেতরে-বাইরে তার পথচলা অনুপ্রাণিত করেছে নতুন এক প্রজন্মের ক্রিকেটারদের।

্রিন্ট

আরও সংবদ