খুলনা | শুক্রবার | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৬ পৌষ ১৪৩২

অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা প্রকাশ যোগ হলো ১৩৬, সরকার বেঁধে দেবে দাম

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বড় পদক্ষেপ সরকারের

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৪ এ.এম | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬


‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন ১৩৫টি ওষুধ। আর এতে করে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ২৯৫টি ওষুধ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী মোঃ সায়েদুর রহমান।
মানুষের চিকিৎসা ও ওষুধ প্রাপ্যতার জন্য বিক্রেতাদের সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে কাজটি করার জন্য সময় দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ক্যানসার চিকিৎসা ওষুধ এই তালিকাতে নেই। তবে হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিসসহ বাকীগুলো রয়েছে। দেশে ওষুধের ওপর মূল্য নির্ধারণ না করায় হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিলো।
সায়েদুর রহমান বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে। ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতির পর দীর্ঘ সময় এ তালিকা অপরিবর্তিত ছিল, যার ফলে বাজারে থাকা ১৩০০-এর বেশি ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল।
‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশই খরচ হয় ওষুধ কিনতে’ উলে­খ করে তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিমা বা সরকারি সুবিধা থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই। এ পরিস্থিতিতে ওষুধের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া বিকল্প ছিল না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে.সায়েদুর রহমান বলেন, সরকারের এ নতুন হস্তক্ষেপে আগের ১১৭টি ওষুধের তালিকার সঙ্গে আরও ১৩৬টি নতুন ওষুধ যুক্ত হয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি। “একটি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে যেখানে ২৯৫ বা সেটা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আরো একটি দু’টি ড্রাগের অন্তর্ভুক্তি অনুরোধ এসেছে। সেগুলো অন্তর্ভুক্ত হলে ২৯৫ বা ২৯৬ টা ওষুধ হবে। এগুলোকে বলা হচ্ছে অত্যাবশ্যক ওষুধ। 
এখন থেকে অত্যাবশ্যকীয় তালিকাভুক্ত সব ওষুধের দাম সরকার ঠিক করে দেবে এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে কেউ ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না বলে জানান তিনি।
দাম কীভাবে বেঁধে দেওয়া হবে তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “মূল ব্যাপার যেটা ঘটবে সেটা হচ্ছে যে এই অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর সবগুলোর মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে।” এবং এই নির্ধারিত মূল্যের বাইরে যারা আছেন তাদেরকে এই মূল্যে পর্যায়ক্রমে আসতে হবে। যারা ওপরে আছেন তাদেরকেও নেমে আসতে হবে, যারা নিচ থেকে যাবেন তারা ইচ্ছা করলে ওপরে উঠতে পারেন অথবা থাকবেন।”
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, বর্তমানে যারা এ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছেন, তাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি রেটে নেমে আসতে হবে। মূলত মানুষের ব্যক্তিগত পকেট থেকে ওষুধের পেছনে হওয়া বিশাল খরচ কমিয়ে আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
পর্যায়ক্রমের বিষয়টির ব্যাখ্যায় চার বছর সময় দেওয়া হবে বলে তিনি তুলে ধরেন। “প্রতিবছর কমিয়ে কমিয়ে চার বছরের মধ্যে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আসতে হবে।” 
এতে কতটুকু সুফল মিলবে তাও বলেছেন সায়েদুর রহমান। “এই ওষুধগুলো বাংলাদেশের সাধারণভাবে আপনারা সবাই জানেন যে অত্যাবশ্যক ওষুধ মাত্রই এটা বাই ডেফিনেশন এটা শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের সকল রোগ ব্যধি চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। “অতএব এই ওষুধগুলোর ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ সরাসরিভাবে বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতা এবং ওষুধের প্রাপ্যতা ওপর প্রভাব ফেলবে। অতএব এটা একটা বলা যায় একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।”
এর বাইরে আরও ১১০০ এর মত ওষুধ আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে 'নির্দিষ্ট' মূল্য ঠিক করে না দিলেও একটা দামের পরিধি বেঁধে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সায়েদুর রহমান।
তিনি বলেন, “যে সকল পণ্যের উৎপাদক সাতের বেশি প্রতিষ্ঠান। সেসব ওষুধের মূল্য তাদের বিক্রির মূল্যের মধ্যে দামে বেঁধে দেওয়া হবে।
উদাহরণ টেনে সায়েদুর বলেন, “কোনো ওষুধের বিক্রির মূল্য ১০-২০ এ বিক্রি হলে সেটি ঠিক করা হবে ১৫ টাকায়। এবং এর সঙ্গে যোগ-বিয়োগ ১৫ শতাংশ রেঞ্জ রাখা হবে। যেসব ওষুধের উৎপাদক ৭টির কম, সেক্ষেত্রে বিদেশের বাজার মূল্যও আমলে নিয়ে একটা বাজার দরের রেঞ্জ ঠিক করা হবে।”
তার ভাষ্য, মূল্য নির্ধারণের নীতিমালারও অনুমোদন মিলেছে সভায়। দ্রুতই তা প্রকাশ পাবে। এটি হলে আর কোনো ওষুধই একদম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন উৎপাদনে আসা ওষুধের ক্ষেত্রেও এ নীতিমালা নির্দেশনা থাকবে বলে জানিয়েছেন সায়েদুর। এসেনশিয়াল ড্রাগের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে যার গাইডলাইন ইতোমধ্যেই কেবিনেট অনুমোদিত বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্যানসার চিকিৎসার ওষুধ এ তালিকাতে নেই। তবে হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিসসহ বাকীগুলো রয়েছে। দেশে ওষুধের ওপর মূল্য নির্ধারণ না করায় হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে জনস্বাস্থ্য সেবায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

্রিন্ট

আরও সংবদ