খুলনা | শুক্রবার | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৬ পৌষ ১৪৩২

মাদুরো অপহরণে ট্রাম্পের শক্তি প্রদর্শন তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক বেইজিং

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫০ এ.এম | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬


মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি দেশটিতে নিযুক্ত চীনের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দুই দেশের ‘কৌশলগত সম্পর্ক’ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তবে এই ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং দেশটিতে চীনের বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটক করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কেবল লাতিন আমেরিকায় নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও একটি নতুন বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে নিজের ‘প্রভাব বলয়’ স¤প্রসারণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরুজ্জীবিত উনবিংশ শতাব্দীর মনরো মতবাদের আওতায় পশ্চিম গোলার্ধকে একচ্ছত্র মার্কিন প্রভাবক্ষেত্র হিসেবে দেখতে চান। তার সর্বশেষ জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপের পরিবর্তে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় জোর দেওয়া হয়েছে। এই নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি পশ্চিম গোলার্ধ চায়, যা ‘বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব থেকে মুক্ত’-যার ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে চীনের দিকে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলাকে তেল উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্ত দিচ্ছে। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
চীন মাদুরো অপহরণকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে ভেনেজুয়েলায় সরকার উৎখাতের চেষ্টা বন্ধের আহŸান জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনায় লাতিন আমেরিকায় চীনের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিমোনা গ্রানো বলেন, এই ঘটনা চীনের কাছে একটি দ্বৈত বার্তা দিচ্ছে। একদিকে লাতিন আমেরিকায় চীনের অবস্থান দুর্বল, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রভাব বলয়’ যুক্তি পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে তাইওয়ান প্রশ্নে, চীনের অবস্থানকে আরও জোরালো করতে পারে।
চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলেছে। যদিও নিকট ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম, তবু যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযান ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপের যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ভেনেজুয়েলা ইস্যু চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নেটিজেন তাইওয়ানের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তুলনা টেনে মন্তব্য করেছেন যে, শক্তিশালী রাষ্ট্র না হলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর অপসারণ চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে না। তবে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে লাতিন আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগ এখন আগের তুলনায় বেশি রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে। তবুও বেইজিং এই অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার বদলে ঝুঁকি কমানোর কৌশলই বেছে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র : আল-জাজিরা।

্রিন্ট

আরও সংবদ