খুলনা | রবিবার | ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৭ পৌষ ১৪৩২

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান

খবর প্রতিবেদন |
১০:৩২ পি.এম | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তারেক রহমান। শুক্রবার দলটির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুক্রবার বিএনপি’র মিডিয়া সেলের পেজের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি’র চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপি’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপি’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিনা রহমান, মেজর অবঃ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিএনপি’র মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে দলের গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। বগুড়ায় সফল সম্মেলনের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেন। 
২০০২ সালের ২২ জুন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব পদ তৈরি করে তারেক ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৯ সালে দলের সম্মেলনে তাকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পরপরই তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপি।
এর মধ্যে এক-এগারোর সময় জেলে যেতে হয়েছিল তারেক রহমানকে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগ সরকার তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছিল। গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে এতকিছুর পরও তারেক রহমানকে দমিয়ে রাখা যায়নি। প্রতিকূল সময়েও সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমকে দলকে রাজপথে রেখেছেন তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানায় লাখো মানুষ। পূর্বাচলে লাখো মানুষের সামনে সমাবেশ মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দি পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’

্রিন্ট

আরও সংবদ