খুলনা | শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | ২ মাঘ ১৪৩২

নিপাহ ভাইরাসে শতভাগ উদাসীনতার অবকাশ নেই

|
১১:৫১ পি.এম | ০৯ জানুয়ারী ২০২৬


বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ নতুন কোনো ব্যাধি নয়, তবে অতি স¤প্রতি রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) যে তথ্য প্রকাশ করেছে তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। গত দুই বছরে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শতভাগই মৃত্যুবরণ করেছে। এর আগে ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ মৃত্যুর রেকর্ড থাকলেও বর্তমানে মৃত্যুর হার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
আইইডিসিআরের তথ্যমতে, ২০০১ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩৪৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৪৯ জনই প্রাণ হারিয়েছে। গড় মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আক্রান্ত ৯ জনের সবাই মারা গেছে। এই চিত্র প্রমাণ করে যে নিপাহ ভাইরাস আরো প্রাণসংহারী হয়ে উঠছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, আগে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই ভাইরাসের প্রকোপ সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন ভোলাসহ দেশের ৩৫টি জেলায় এটি ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ দেশের অর্ধেকেরও বেশি জেলা এখন নিপাহর ঝুঁকিতে।
নিপাহ ভাইরাস একটি প্রাণিবাহিত রোগ, যা মূলত বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। খেজুরের কাঁচা রস পান করা এবং বাদুড় বা পাখির আধা খাওয়া ফল খাওয়া সংক্রমণের প্রধান কারণ। গ্রামবাংলার সংস্কৃতিতে ‘রস উৎসব’ একটি জনপ্রিয় অনুষঙ্গ হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি আক্ষরিক অর্থেই প্রাণঘাতী। আইইডিসিআর সঠিকভাবেই পরামর্শ দিয়েছে রস উৎসবের বদলে পিঠা উৎসব করার এবং অনলাইনে বা সরাসরি কাঁচা রস কেনা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার।
নিপাহ ভাইরাসের আরেকটি বিপজ্জনক দিক হলো মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সুস্থ মানুষও সংক্রমিত হতে পারে। এর লক্ষণগুলো সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও দ্রুত তা অসংলগ্ন আচরণ, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনির মতো মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায়। খেজুরের রস খাওয়ার ২৮ দিন পরও লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।
নিপাহ ভাইরাসের উৎস, বিস্তার এবং সংক্রমণচক্র সম্পর্কে বহুদিন ধরেই তথ্য রয়েছে। বিষয়টি জাতীয় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। সে অর্থে প্রতিরোধই একমাত্র সুরক্ষা। প্রয়োজনে আইনগত বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির অভিযান জোরদার করতে হবে। নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে, যাতে দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত করে রোগীকে পৃথককরণ করা যায়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ভ্যাকসিন উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
নিপাহ ভাইরাস বারবার প্রমাণ করেছে, এটি অবহেলার রোগ নয়। শতভাগ মৃত্যুহার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সতর্কতা ও প্রতিরোধ ছাড়া নিপাহ’র বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অসহায়।

্রিন্ট

আরও সংবদ