খুলনা | রবিবার | ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৭ পৌষ ১৪৩২

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে আগুন

ইরানে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৪৫

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৭ এ.এম | ১০ জানুয়ারী ২০২৬


ইরানের বিভিন্ন শহরে তীব্র সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। রাজধানী তেহরানসহ কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দে নতুনভাবে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় স¤প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-এর একটি ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে গাল্ফ নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে সংবাদ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড এ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ মোকাবিলায় চরম সংযম বজায় রাখার আহŸান জানিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করেছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিদেশি উসকানিদাতা সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর অনুযায়ী, ফারদিস শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার নরওয়ে ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত বুধবার ছিল এই আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন, যেখানে এক দিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া সংঘাতের ফলে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ এবং এখন পর্যন্ত ২ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে এই বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছে।
ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং মুদ্রার ব্যাপক মান হারানোই এই নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে ইরানি রিয়ালের দরপতন এবং অসহনীয় মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। 
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অর্থনৈতিক দুর্ভোগ স্বীকার করলেও সহিংসতার জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করেছেন। ইরান সরকার জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলার জবাবে সীমাহীন প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।
এক পর্যবেক্ষক সংস্থা জানায়, ৯ জানুয়ারি থেকে ইরানে ইন্টারনেট প্রায় বন্ধ রয়েছে, যার ফলে তথ্য প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রকাশিত ভিডিওতে বিভিন্ন শহরে আগুন, কাঁদানে গ্যাস ও গোলাগুলির দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যদিও সরকারি পক্ষের দাবি, অনেক হতাহত সহিংস সংঘর্ষের ফল।
গত বুধবার নতুন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সশস্ত্র দাঙ্গাকারীর মধ্যে পার্থক্য করার আহŸান জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রথম ধর্মঘটের ডাক দেন, যা দ্রুতই একটি দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা এখন কেবল অর্থনৈতিক সংস্কার নয়, বরং ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের আমূল পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।
এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাজধানীসহ প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক হারে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি পুরো দেশে ইন্টারনেট এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও দমানো যাচ্ছে না উত্তেজনা। এই বিক্ষোভ নিয়ে দেশটিতে সরকার ব্যাপক চাপে আছে।
প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, বছরের পর বছর ধরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবনতি, তার জেরে অসহনীয় মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় নাভিশ্বাস উঠছিল ইরানের সাধারণ জনগণের। নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে বিক্ষোভের শুরুতেই ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বল প্রয়োগ করে এটি দমনের চেষ্টা করেছে। 
এখন সব নজর হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। গত সপ্তাহে তিনি হুমকি দিয়েছেন, যদি বিক্ষোভকারীদের ইরান সরকার হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র এতে হস্তক্ষেপ করবে।
এর মধ্যে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দ্বিতীয়বারের মতো হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে তারা ইরানে শক্তিশালী হামলা চালাবেন। 
সূত্র: এএফপি ও বিবিসি।

্রিন্ট

আরও সংবদ