খুলনা | শনিবার | ১০ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৭ পৌষ ১৪৩২

মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে ফের গোলাগুলি নাফ নদীতে জেলে গুলিবিদ্ধ, কাঁপছে টেকনাফ সীমান্তের বাড়িঘর

খবর প্রতিবেদন |
০১:২০ এ.এম | ১০ জানুয়ারী ২০২৬


কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নাফ নদীর ওপার থেকে থেমে থেমে বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে, যার ফলে সীমান্তঘেঁষা এলাকার ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার দিনভর এসব শব্দ শোনা গেছে।
এদিকে সংঘর্ষের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যাংয়ে উত্তরপাড়া সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলে ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ওই এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময় গুলিতে মোঃ আলমগীর (৩১) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিটি মিয়ানমার থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গুলিবিদ্ধ আলমগীর টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতেও এক দফা গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। কিছু সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দা মোঃ সলিমুল্লা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনার পর তিনি আর ঘুমাতে পারেননি। সীমান্তের খুব কাছ থেকেই এসব শব্দ ভেসে আসছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় জেলে আহমেদ উল্লাহ বলেন, রাখাইন সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এতে নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে যেতে ভয় লাগে। রাতে ঘুমালেও সারাক্ষণ আতঙ্ক কাজ করে।
হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে এপারের বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। বেলা ১১টার দিকে তিন থেকে চারটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এরপর থেকে থেমে থেমে এখনও গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতে গোলাগুলির ঘটনার সময় নাফ নদীতে নৌকায় মাছ ধরতে গিয়ে মোঃ আলমগীর নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এর আগেও রাখাইন সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ায় একাধিকবার মানুষ আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলি ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
উখিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুনেছি, মাছ ধরতে ওই জেলে মিয়ানমার সীমানা পার হয়ে তাদের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছিল। সেখান থেকে তাকে গুলি করা হয়েছে। তবে আজ সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। পরে ১১টার পরে আবারও থেমে থেমে গোলাগুলির মিয়ানমার থেকে শব্দ ভেসে আসছে এপারে। সীমান্তে বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। আমরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল। 
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবেই এই গোলাগুলি চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

্রিন্ট

আরও সংবদ