খুলনা | রবিবার | ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৭ পৌষ ১৪৩২

গাজায় চিকিৎসার অপেক্ষায় করুণ মৃত্যু রোগীদের

খবর প্রতিবেদন |
০১:২১ এ.এম | ১০ জানুয়ারী ২০২৬


গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ও আগ্রাসনের মুখে চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।  ক্যানসার রোগীদের জন্য গাজার একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘টার্কিশ-প্যালেস্টাইনিয়ান ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল’ ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার রোগী কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। 
শুক্রবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েল একদিকে গাজা থেকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে বাধা দিচ্ছে, অন্যদিকে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে গাজায় এখন ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া মানেই অবধারিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
গাজা ক্যান্সার সেন্টারের মেডিকেল ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবু নাদা এক সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, তারা ক্যান্সার চিকিৎসার সব সরঞ্জাম ও সক্ষমতা হারিয়েছেন। বর্তমানে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হলেও সেখানে রোগ নির্ণয়ের কোনো যন্ত্র বা কেমোথেরাপির ওষুধ নেই। 
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সা¤প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির দোহাই দিয়ে গাজায় চকোলেট, চিপস বা বাদামের মতো বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও ক্যানসার বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের কোনো ওষুধ ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আবু নাদার মতে, এটি স্রেফ একটি প্রচারণামূলক কৌশল, কারণ ক্যানসার চিকিৎসার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রোটোকল বা প্রয়োজনীয় ওষুধ এখন গাজায় একেবারেই অনুপস্থিত।
মানবিক এই বিপর্যয়ের শিকার হানি নাঈম নামের এক রোগী জানান, তিনি গত ছয় বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং আগে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে গিয়ে চিকিৎসা নিতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি গাজায় আটকা পড়েছেন এবং কোনো রেডিওথেরাপি পাচ্ছেন না। মোহাম্মদ আবু নাদা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র খান ইউনিস এলাকাতেই প্রতিদিন দুই থেকে তিন জন ক্যানসার রোগী মারা যাচ্ছেন। 
ব্যথানাশক ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে মুমূর্ষু রোগীদের যন্ত্রণা উপশম করাও এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৩ হাজার ২৫০ জন রোগীর বিদেশে চিকিৎসার জন্য দাপ্তরিক ছাড়পত্র থাকলেও রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা গাজা ছাড়তে পারছেন না।
চিকিৎসকরা বলছেন, গাজায় ক্যানসার চিকিৎসা এখন প্রায় ৫০ বছর আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। ক্যানসার সারা শরীরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লেও তা প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গাজা ছেড়ে চলে গেছেন এবং যাঁরা এখনও আছেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তারা কেবল রোগীদের পাশে বসে চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেন না। 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বারবার চিকিৎসার সরঞ্জাম বা বিদেশে যাওয়ার অনুমতির আবেদন জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। গাজার এই নিঃশব্দ ঘাতক ব্যাধি এবং চিকিৎসার কৃত্রিম সংকট হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। 
সূত্র: আল জাজিরা।

্রিন্ট

আরও সংবদ