খুলনা | রবিবার | ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৭ পৌষ ১৪৩২

সাতক্ষীরায় বেড়েছে শীতের প্রকোপ ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০১:৩০ এ.এম | ১০ জানুয়ারী ২০২৬


চলতি শীত মৌসুমে শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সাতক্ষীরায় সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। চিকিৎসা নিতে প্রায় প্রতিদিন জেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে অক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আসা হচ্ছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রোগীদের একটি বড় অংশ হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎস্যা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎস্যা সেবা দেওয়া হচ্ছে। গত এক মাসে সাতক্ষীরা সদর ও শিশু হাসপাতালে তিন শতাধিক শিশু নিউমোনিয়া ও কোল্ড ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।
শুক্রবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ১ ডিসেম্বর হতে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কোল্ড ডায়রিয়া আক্রান্ত ২৮১ জন শিশুকে ভর্তি করানো হয়েছে। এছাড়া শিশু সাধারণ ওয়ার্ডে সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে গত চার দিনে ৩৭ জন ভর্তি হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক রোগী আউট ও ইনডোরে চিকিৎসা নিয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বড়দল গ্রামের গৃহবধূ হেলেনা খাতুনের তিন মাস বয়সের শিশু পুত্র হামজালা কোল্ড ডায়রিয়ায় হওয়ায় তাকে সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভর্তি করান। একই উপজেলার বলাডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ জবা খাতুন তার ৭ মাস বয়সের শিশু পুত্র আজমীর হোসেন ও বাউখালী গ্রামের রেশমা খাতুনের ১৪ মাস বয়সের শিশু মেয়ে ফারিয়া কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় ৩ জানুয়ারি সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। 
এসব ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের মায়েরা জানান, তীব্র শীতের কারণে তাদের শিশুরা প্রথমে পাতলা পায়খানা ও পরবর্তীতে বমি করে। বার বার এই লক্ষন দেখার পর তারা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা শিশুদের কোল্ড ডায়রিয়া আক্রান্ত বলে জানান।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক রিয়াদ হাসান জানান, এমন তীব্র শীতে শিশুদের ঘরের বাইরে না বের করার পাশাপাশি তাদের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে মায়েদের। তাছাড়া আক্রান্ত শিশুদের কাছাকাছি অন্য শিশুদের না থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সাতক্ষীরার একমাত্র বেসরকারি শিশু হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবুল বাসার জানান, স¤প্রতি কোল্ড ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু বেড়েছে তার হাসপাতালে। গত ১ ডিসেম্বর হতে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে শিশু হাসপাতালে। চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুদের ঠান্ডা না লাগানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সামছুর রহমান জানান, তীব্র শীতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। ফলে তীব্র শীতে সর্দি-কাশি, নিমোনিয়া ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। ইতিমধ্যে শতাধিক রোগী  হাসপাতালের আউট ও ইনডোরে চিকিৎসা নিয়েছে।
তিনি বলেন, বলেন, তীব্র শীতে শিশুদের প্রতি বিশেষ যতœ নিতে হবে। এ সময় অভিভাবক বা মায়েদের সতর্ক থাকতে হবে শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে। তাছাড়া ফুটানো পানি ও শুষ্ক খাবার খেতে দিতে হবে শিশুদের। বাসি খাবার শিশুদের খাওয়ানো যাবে না। ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জুলফিকার হোসেন জানান, গত দুই তিন বছর সাতক্ষীরা অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি দেখা দিচ্ছে। জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত কারনেই মূলতঃ আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন ঘটছে। বর্তমান যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে সাতক্ষীরাতে তা দু’একদিনের মধ্যে আরো কমে আসবে বলেও জানান তিনি। এ জন্য সাধারণ মানুষজনের সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন।

্রিন্ট

আরও সংবদ