খুলনা | রবিবার | ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৮ পৌষ ১৪৩২

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন: খলিলুর রহমান

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৪৮ পি.এম | ১০ জানুয়ারী ২০২৬


জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন খলিলুর রহমান। সেখানে অ্যালিসন হুকার আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা তুলে ধরেন।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে, বিশেষ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অ্যালিসন হুকার বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন।”

স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ আগ্রহী বাংলাদেশ
ফিলিস্তিনের গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হওয়ার বিষয়ে আগ্রহের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আন্ডার-সেক্রেটারি হুকার বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।

বৈঠকে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক ভিসা বন্ড ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ জটিল হয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি-১) থেকে ভিসা বন্ড অব্যাহতির অনুরোধ জানান।

অ্যালিসন হুকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে যদি পর্যটকদের বেশি সময় অবস্থান করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে, তাহলে ভিসা বন্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।”

এ ছাড়া অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য প্রশংসা করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।

যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ মন্তব্য করে তিনি এ সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

অ্যালিসন হুকার বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বড় চাপ বহন করছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়ভার ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন এবং রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থানকালে তাদের জন্য জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনের (ডিএফসি) অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং দেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প উন্নয়নে অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিবেচনার আশ্বাস দেন অ্যালিসন হুকার।

বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে খলিলুর রহমান স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ) মাইকেল জে. রিগাস তাকে শপথ পাঠ করান।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বাংলাদেশের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে যাত্রাকে সমর্থন করে। ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছি এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একযোগে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করতে আগ্রহী।”

এসব কর্মসূচিতে জ্যেষ্ঠ দূতাবাস কর্মকর্তারা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন।

্রিন্ট

আরও সংবদ