খুলনা | রবিবার | ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৮ পৌষ ১৪৩২

‘উগ্রবাদ মোকাবিলায় তারেক রহমানের বিকল্প নাই : মতিউর * সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লাইমেট চেঞ্জ : মাহফুজ * গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে : নূরুল কবীর

‘দয়া করে আমাকে মাননীয় বলবেন না’

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৭ এ.এম | ১১ জানুয়ারী ২০২৬


বিএনপি’র নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করেছেন, তাকে যেন মাননীয় শব্দ বলে সম্বোধন না করা হয়।  শনিবার রাজধানীর বনানী শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।
ঢাকার একজন সাংবাদিকনেতা বিএনপি’র প্রধানকে মাননীয় বলার প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান বলেন, “দয়া করে আমার নামের আগে মাননীয় সম্বোধন করবেন না।” তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন দেশে থাকতে পারিনি, কিন্তু সারাক্ষণই মন দেশেই ছিলো।”
ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতাদের মন খুলে কথা বলার আহŸান জানান বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “বেশ কঠিন সময়ে তারেক রহমান বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন তখন যখন সমগ্র দেশের মানুষ এক বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। দূর (লন্ডনে থাকা অবস্থায়) থেকে তিনি যে সমস্ত কথা আমাদের সামনে বলেছেন তা গোটা জাতিকে অনেক বেশি আশান্বিত হয়েছেন। আশান্বিত হয়েছি এজন্যই, এবার একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে সত্যিকার অর্থেই উদারপন্থি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমরা সৃষ্টি করতে পারবো।”  
বিএনপি’র এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আজকে আমি কথা বলতে আসিনি। আজকে আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলবেন, আমরা শুনবো। যদিও ঠান্ডা লেগে তার কণ্ঠের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তারপর তিনি খুবই আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে অন্তত্য উৎসুক।”
‘উগ্রবাদ মোকাবিলায় তারেক রহমানের বিকল্প নাই’ : ‘সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে’, এমন মন্তব্য করেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তিনি কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে। দলের মধ্য থেকে যদি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে অতীতের মতোই কিন্তু ভুল হবে। সেই ভুল থেকে আমরা আবার এমন একটা অবস্থায় চলে যাবো যেখান থেকে আমাদের ফিরে আসা কঠিন হবে।”
উগ্রবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা প্রসঙ্গে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, “আজকের বাংলাদেশ অস্তিত্ব সংকটে যেভাবে পড়ে যাচ্ছে, সেই সংকট থেকে যে উগ্রবাদ আমাদের গ্রাস করার চেষ্টা করছে, সেই উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমান ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।”
অনুষ্ঠানে মতিউর রহমান চৌধুরী তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, “আমি এক তারেক রহমানকে চিনতাম। ২৩ বছর আগে আমি ইলেকট্রনিকস্ সাংবাদিকতার প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তারেক রহমানের, সেদিন চ্যানেল আইতে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়েছিল। আমি এখন দেখি ২৩ বছর বাদে তারেক রহমান বদলে গেছেন। আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে তার মধ্যে। অনেকে এটা বিশ্বাস করেন না। আমি কাছে থেকে জানি, দেখি এবং শুনেছি।”
৫ আগস্টের পর গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত জানিয়ে এই সম্পাদক বলেন, “মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা অনেকটাই সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত-পা বাঁধা হয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া ও সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয় তখন কিন্তু ভাবতে কষ্ট লাগে-আমরা জাহান্নামে আছি, না বেহেশতে আছি।”
‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লাইমেট চেঞ্জ’ :  অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, ‘আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সুশাসন চাই। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং আপনাকেও (বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান) নিশ্চয় অনেকে বলেছেন।” 
তিনি আরও বলেন, “একটি দু’টি বিষয়ে মনে হয় যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী। আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লাইমেট চেঞ্জ। এ নিয়ে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো অতো আলোচনা করছি না। বাংলাদেশ কিন্তু একদম ফ্রন্টলাইন দেশের মধ্যে কয়েকটা। ক্লাইমেট চেঞ্জের কি যে ইমপ্যাক্ট হবে, এটা অলরেডি কোস্টাল এরিয়াতে দেখতে পাচ্ছি।”
‘গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে’ : নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেছেন, “আমরা যদি ভবিষ্যতে সমাজ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই, অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে। কোনও রাজনৈতিক দল যদি বিশ্বাস করে মানুষ গণতান্ত্রিক রূপান্তর চান-তাহলে একইসঙ্গে সেই গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহযোগিতা করার জন্য গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

্রিন্ট

আরও সংবদ