খুলনা | সোমবার | ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৮ পৌষ ১৪৩২

ইরান জুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা-চিকিৎসা দিতে হিমশিম, নিহত অন্তত ১৯২

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩১ পি.এম | ১১ জানুয়ারী ২০২৬


ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া গত দুই সপ্তাহের সরকার বিরোধী বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলমান এই সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। রোববার নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতাসীন সরকার ও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে ইরানে বিক্ষোভে ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে নতুন হিসাবে সেই সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি  পেয়েছে।
বাইরের শক্তির সমর্থনে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের ভেতরে দাঙ্গা চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগে করে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার কয়েকশ’ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের জাতীয় পুলিশ।
ইরান হিউম্যান রাইটস বলেছে, ‘‘আমরা বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’’ সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও জনগণের দাবি নিয়ে কথা বলবেন। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্ষমতাসীন সরকারের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের উপায় ও পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত স¤প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, জাতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে এক কথোপকথনে প্রেসিডেন্ট ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কারে সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছেন এবং সা¤প্রতিক ঘটনাবলি ও জনগণের দাবির জবাবে সরকারের অবস্থান নিয়েও আলোচনা করেছেন। সাক্ষাৎকারটি রোববার আরও পরে স¤প্রচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকার বিরোধী বিক্ষোভে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ব্যাপক কঠোর অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে ‘‘সন্ত্রাসী সংগঠন’’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সার বলেছেন, সফররত জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্টকে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার এখনই সময়।’’ 
ইরান জুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা-চিকিৎসা দিতে হিমশিম : ইরানে চলমান বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। দেশটির হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই অবস্থা। আহতদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের।
দেশটির তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি জানায়, সংঘাত-সহিংসতায় আহতদের ভিড় সামলাতে সমস্যায় পড়েছে হাসপাতালগুলো।
তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, ‘অনেক তরুণের মাথায় এবং বুকে গুলি লেগেছে।’
তেহরানের আরেক হাসপাতালের কর্মীরা জানান, শরীরে গুলি এবং রাবার বুলেটের ক্ষত নিয়ে আসা বহু মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছেন তারা।
এদিকে, ইরানে সহিংস বিক্ষোভ দমনের জবাব সামরিক কায়দায় দেওয়া হবে বলে শুক্রবার আবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অভিযোগ করেছে, দেশটির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংস রূপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের অভিযোগের জবাবে মাকির্ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান এখন ‘স্বাধীনতা’ চায়, হয়ত অন্য কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।”
২০২২ সালে তেহরানে পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর এবারের আন্দোলনকে সবচেয়ে বড় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই সপ্তাহ আগে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা সব প্রদেশে এবং একশ’র বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংস রূপ নেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনীর হামলায় এরইমধ্যে কয়েকশ, বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে। বহু মানুষ আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত ও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ সদস্য এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন।বিবিসি পারসিয়ান নিশ্চিত করেছে, রাশত্ শহরের পুরসিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাতে ৭০ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। কিন্তু হাসপাতালের মর্গে এত মরদেহ রাখার জায়গা ছিল না, ফলে অনেকের লাশ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। 
সূত্র: এএফপি ও বিবিসি।

্রিন্ট

আরও সংবদ