খুলনা | শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | ২ মাঘ ১৪৩২

মৌসুমেও অস্থির চালের বাজার কঠোর ও দৃশ্যমান তদারকি জরুরি

|
১২:০৩ এ.এম | ১২ জানুয়ারী ২০২৬


বাংলাদেশের ঘরে ঘরে যখন নবান্ন উৎসবের আমেজ থাকার কথা, যখন নতুন ধানের গন্ধে কৃষকের মুখে হাসি ফোঁটার কথা, তখন ঠিক উলটো চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি চালের বাজারে। আউশ-আমন মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তিসংগত কারণেই চালের দাম কমার কথা। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এরপরও সাধারণ ভোক্তাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। 
চালের বাজারে অসাধু মিলারদের সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেখা গেছে, মিল পর্যায়ে সরু চালের বস্তাপ্রতি দাম সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা বাড়ানোয় এর প্রভাবে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের জন্য ক্রেতাকে ৩ থেকে ৬ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে। নতুন ধানের ভরা মৌসুমে এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল অনৈতিকই নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এক কঠোর আঘাত।
বলা বাহুল্য, যেখানে জোগান পর্যাপ্ত, সেখানে বাজারে কৃত্রিম সংকট সিন্ডিকেটের কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, অর্থনীতির সাধারণ সূত্র বলে, চাহিদা অনুযায়ী জোগান বাড়লে দাম কমে। কিন্তু আমাদের দেশে ‘সিন্ডিকেট’ নামক এ অদৃশ্য শক্তি সেই সূত্রকে বারবারই অকার্যকর করে দিচ্ছে। মনে রাখা প্রয়োজন, এদেশে চাল শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়, বরং তা মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই চালের বাজারে অস্থিরতা মানে মানুষের জীবনে অস্থিরতা। কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং খুচরা বিক্রেতারা সরাসরি যেখানে কতিপয় অসাধু মিলারদের দায়ী করছেন, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়াটা হতাশাজনক। আমরা মনে করি, সরকারের পক্ষ থেকে কেবল আশ্বাস নয়, মিল পর্যায়ে কঠোর অভিযান এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও জরুরি। এজন্য কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ধানের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুর অস্বাভাবিকতা মোকাবিলায় আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সরকারকে যেমন বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, তেমনই ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণও অপরিহার্য। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ, আতঙ্কে অতিরিক্ত চাল মজুত করলে সংকট আরও বাড়বে। তাই ভোক্তাদের উচিত প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রয় করা এবং বাজারে অযথা চাপ সৃষ্টি না করা। চালের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক শান্তিরও পূর্বশর্ত। কৃষককে ন্যায্য দাম দেওয়া, ভোক্তাকে সাশ্রয়ী দামে চাল সরবরাহ করা এবং ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা-এই তিনটি বিষয় বাস্তবায়ন করতে পারলেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সরকার চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

্রিন্ট

আরও সংবদ