খুলনা | সোমবার | ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৯ পৌষ ১৪৩২

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে অংশীজনদের সমন্বয় কর্মশালা

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে

তথ্য বিবরণী |
০২:০৮ এ.এম | ১২ জানুয়ারী ২০২৬


খুলনায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিচার প্রক্রিয়া জোরদারে অংশীজনদের সমন্বয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে বেসরকারি সংস্থা নাইস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, নারী নেতৃবৃন্দ, ট্রান্স একটিভিস্ট, মানবাধিকার কর্মী, গণমাধ্যম কর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্টজনেরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে, অথচ এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কর্মশালায় সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোতে বিচার বিলম্বিত হওয়ায় ন্যায়বিচার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। একইসঙ্গে ভিকটিম ও সাক্ষীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে থানা পুলিশের আন্তরিকতার অভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শিথিলতা ও আইনের ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এবং সমাজে ভয়ংকর বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। আগামীতে নির্বাচিত হলে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা ও ফাঁকফোকর সংস্কার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে। কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যেতে না পারে-সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও প্রতিশ্র“তি দেন, নির্বাচিত হলে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের পাশে দাঁড়াবেন এবং তাদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
কর্মশালায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনসমূহের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে সমাজ থেকে সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন নাইস ফাউন্ডেশনের সম্পাদক এম মজিবুর রহমান। সঞ্চলনায় ছিলেন বাংলাদেশ বেতার, খুলনার উপ-পরিচালক মোঃ মামুন আক্তার। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন নাইস ফাউন্ডশনের প্রোগ্রাম পরিচালক রাবেয়া সুলতানা ও কর্মশালার ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কুয়েটের এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. আনজুম তাসনুভা। বিশেষ বক্তৃতা করেন সিনিয়র সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী ও খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান।

্রিন্ট

আরও সংবদ