খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৯ পৌষ ১৪৩২

‘অর্থ আত্মসাৎ ও হত্যার হুমকি’ মামলা থেকে মেহজাবীনের অব্যাহতি

খবর বিনোদন |
০২:৫১ পি.এম | ১২ জানুয়ারী ২০২৬


ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরী মুচলেকা দিয়ে অব্যাহতি পেয়েছেন।

সোমবার শুনানি নিয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার মেহজাবীন ও আলিসানকে অব্যাহতির এ আদেশ দেন।

মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিন এ মামলায় মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসানের জবাব দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তারা আদালতে হাজির হয়ে জবাব দাখিল করেন।

তাদের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বলেন, আমরা আদালতকে জানিয়েছি, বাদীর অভিযোগ অসত্য, মনগড়া। মামলায় বাদী ও আসামিদের ঠিকানাও সঠিকভাবে ব্যবহার করেনি। বাদীর ফোন নাম্বরটাও ভুল। পুরো আরজিটা অসম্পন্ন, মনগড়া, ভিত্তিহীন একটা অভিযোগ।

তিনি বলেন, আসামিরা বাদীকে চেনেন না। কখনো দেখেননি, পরিচয় নেই। হুমকি দিবেন কিভাবে? হুমকি-ধামকির প্রশ্নই আসে না। বাদীর অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। অভিযোগের সমর্থনে কোনো কাগজপত্র নেই, যৌক্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন নাই।

আইনজীবী বলেন, আদালত মেহজাবীনের কাছে চেয়েছিলেন, বাদীকে হুমকি দিয়েছিলেন কি না? মেহজাবীন আদালতকে জানিয়েছেন, তার সাথে পরিচয় নেই, দেখা হয়নি, কথা হয়নি। হুমকি তো পরের কথা। এসময় আদালত বাদীর কাছে হুমকির বিষয়ে জানতে চান।

আইনজীবী বলেছেন, বাদী বলেন, মেহজাবীন না, উনার ভাই হুমকি দিয়েছেন। আমরা (আইনজীবী) আদালতকে বলেছি, তার ভাই যে হুমকি দিয়েছে তার সমর্থনে কোনো বক্তব্য নাই। উভয়পক্ষে শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হান কাজী নয়ন বলেন, আসামিরা বাদীকে হুমকি-ধামকি দিয়েছিলেন কি না আদালত এ বিষয়ে মুচলেকা নিয়েছেন। ভবিষ্যতে বাদীকে যেন হুমকি-ধামকি না দেওয়া হয় এমন মুচলেকা নিয়ে তাদের সতর্ক করে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

বাদীর সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এ আইনজীবী।

আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মেহজাবীন ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছিলেন গেল বছরের ২৪ মার্চ। এরপর গত ১৬ নভেম্বরে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে মেহজাবীন ও তার ভাই হাজির না হওয়ায় ওইদিন আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার খবরটি সংবাদমাধ্যমে আসার পর তা নিয়ে আলোচনার মধ্যে মামলাটি ‘ভিত্তিহীন’ বলে পরে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। মেহজাবীনের ভাষ্য ছিল, যে বা যারা মামলাটি করেছেন তাদের তিনি চেনেন না।

পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, আমি মেহজাবীন চৌধুরী। আজ একটি ভূয়া ও মিথ্যা মামলার সংবাদ দেখে আমি বিস্মিত। আমি মনে করি, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছাড়া কিছু নয়। এই ধরনের কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত নই। যে বা যারা এমন ভিত্তিহীন মামলা করেছেন, তাদের কাউকে আমি চিনি না। যারা আমাকে চেনেন, তারা জানেন আমি কেবল আমার অভিনয় ও পেশাগত দায়িত্বে সর্বদা নিবেদিত। আমি এমন কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নেই, যেখানে আইনি জটিলতায় জড়ানোর প্রশ্ন আসে।

পরে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মেহজাবীন ও তার ভাই।

মামলার বিবরণে বলা হয়, “আমিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিব, কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে।

“পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা বলেন ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না। তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে জানে মেরে ফেলব’।”

এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেয়।

্রিন্ট

আরও সংবদ