খুলনা | বুধবার | ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | ১ মাঘ ১৪৩২

ওয়াশিংটনে খালেদা জিয়ার স্মরণে আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা, নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা বার্নিকাটের

খবর প্রতিবেদন |
১১:১৪ পি.এম | ১৩ জানুয়ারী ২০২৬


ওয়াশিংটনের শতবর্ষী ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে কূটনীতিক, সাংবাদিক ও নীতি নির্ধারকদের অংশগ্রহণে বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত এ সভায় বক্তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।  তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার অনেকবার দেখা হয়েছে। খুব বিপদ এবং সংকটের মধ্যেও তিনি ছিলেন হাস্যজ্জ্বল এবং আন্তরিক। খুবই অমায়িক প্রকৃতির মানুষ। তিনি বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। একজন নারী হিসেবে বাংলাদেশকে খালেদা জিয়া যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা এশিয়া উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন তার লিগ্যাসি স্মরণে রাখবে মানুষ।’
বার্নিকাট আরও বলেন, ‘বহু নির্যাতন সহ্য করেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো অভিযোগ করেননি। সকালের নাস্তা কিংবা রমজানের ইফতার-সব আয়োজনে তার অতিথিপরায়ণতা ও হৃদ্যতা মুগ্ধ করত সবাইকে।’ 
সোমবার  যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত। মঙ্গলবার বিকেলে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী তার ফেসবুক পেইজে অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও পোস্ট করে এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া অন্যকে সম্মান দিয়ে নিজেও সম্মানিত হতেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি অন্যদের খোঁজখবর নিতেন। গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ 
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি (খালেদা জিয়া) সবসময় আমার প্রতি আন্তরিক ছিলেন এবং যখনই চেয়েছি তার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি।’
মোজেনা আরও বলেন, ‘অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে সংগ্রাম করে গেছেন খালেদা জিয়া। অন্যরা যখন কষ্টে হাল ছেড়ে দিয়েছে, তিনি কখনো তা করেননি। কখনো প্রশ্ন করেননি-কেন আমাকে এ ধরনের নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে? তিনি ছিলেন উন্মুক্ত এবং উদার হৃদয়ের মানুষ।’
যুক্তরাষ্ট্রের শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ওয়াশিংটনের কূটনীতিক, সাংবাদিক ও নীতি নির্ধারকরা। 
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা তার রাজনৈতিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সদস্য ও মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর আয়োজিত স্মরণ সভায় আরও বক্তৃতা করেন প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত ১১৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্ক শেফ, এপি’র সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ড, স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো স্টিভ রোজ, ভয়েস আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজা ও আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক এহতেশামুল হক।
স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথপ্রদর্শক। তিনি বলেন, যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছিল এবং বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল, তখনও খালেদা জিয়া নির্ভীকভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অস্ত্র সরানোর উদ্যোগে খালেদা জিয়া দৃঢ়ভাবে বাধা দেন এবং স্বামী মেজর জিয়াউর রহমানের অনুমতি ছাড়া অস্ত্র সরাতে দেননি-যা তাঁর সাহসিকতার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়। রাষ্ট্রদূত মুশফিক আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করা হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার প্রতিবেদনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মার্ক শেফ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক চ্যাম্পিয়নকে স্মরণ করতে পেরে তারা গর্বিত। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতি আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত।
ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর পরিবার ও দলকে সামলে নিয়ে খালেদা জিয়া রাজনীতির হাল ধরেন এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
অধ্যাপক এহতেশামুল হক বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের সীমাহীন ত্যাগ ও বেদনার মধ্যেও খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের লড়াইয়ে আপোষহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।  স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তাঁকে দমিয়ে রাখা যায়নি।
প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা বলেন, জিয়া পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য জনপ্রিয় অবস্থানে রয়েছে এবং গণতন্ত্রে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।
মেরন বিলকাইন্ড বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন আমাদের শেখায়-গণতন্ত্র রক্ষা করতে সাহস ও ত্যাগের প্রয়োজন হয়, আর ইতিহাস গড়ে তারাই যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
আলোচনার আগে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। ওয়াশিংটনের এই স্মরণসভা গণতন্ত্রের প্রতীক এই মহান নেত্রীর প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
 

্রিন্ট

আরও সংবদ