খুলনা | শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | ২ মাঘ ১৪৩২

ব্যাংকে ফিরছে নগদ টাকা স্বস্তির আভাস অর্থনীতিতে

|
১২:০৭ এ.এম | ১৪ জানুয়ারী ২০২৬


বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙা আস্থা, অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে নাজুক অবস্থায় ছিল। আমানতকারীদের ভয়-অনিশ্চয়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বহু মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখাকে নিরাপদ মনে করেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে তীব্র তারল্য সংকট দেখা দেয়, সুদের হার বাড়িয়েও আমানত টানতে হিমশিম খেতে হয়। দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভীতি ও আস্থার সংকট কাটিয়ে অবশেষে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে মানুষের হাতে থাকা নগদ টাকা কমেছে চার হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘরে জমিয়ে রাখা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরেছে। ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা ফিরে পাওয়ার এক বলিষ্ঠ ইঙ্গিত।
বিগত সরকারের শাসনামলে ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণের নামে লুটপাটের খবর সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রাখা শুরু করেন। এর ফলে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে এবং স্বাভাবিক বিনিয়োগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। অলস টাকা ঘরে পড়ে থাকা মানেই হচ্ছে অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন থমকে যাওয়া। কারণ ব্যাংকে গচ্ছিত টাকাই মূলত শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রধান উৎস।
সা¤প্রতিক মাসগুলোতে এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, সেপ্টেম্বর মাসে মানুষের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা, যা অক্টোবরে কমে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৭০ হাজার ৪৪৯ কোটিতে।
অর্থনীতিবিদ ড. মিজানুর রহমান যথার্থই বলেছেন, ‘ঘরে থাকা টাকা বিনিয়োগ বা উৎপাদনে কোনো ভূমিকা রাখে না, ব্যাংকে এলে তা শিল্প, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে ব্যবহৃত হয়। অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়াতে সঞ্চয়ের এই প্রত্যাবর্তন প্রয়োজনীয়।’ এই ইতিবাচক ধারাকে টেকসই করতে হলে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞমহলের মতে, মানুষের এই আস্থা ধরে রাখতে হলে ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ভুয়া ঋণের পথ চিরতরে বন্ধ করা, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে।
ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্য ফেরাতে যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা যেন কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। গ্রাহকের আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যাংকগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে। আমরা আশা করি, যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংক খাত তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরো মজবুত হবে।

্রিন্ট

আরও সংবদ