খুলনা | বুধবার | ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | ১ মাঘ ১৪৩২

চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৮ পি.এম | ১৪ জানুয়ারী ২০২৬


উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন একটি ক্রেন ভেঙে পড়ে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নাখন রাতচাসিমা প্রদেশের সিখিও জেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।

থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ফিফাত রাতচাকিতপ্রাকর্ণ জানান, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা ক্রেনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটির তিনটি বগির মধ্যে দুটিতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেনটি একটি রেল প্রকল্পের নির্মাণাধীন সাইটের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ ওপর থেকে একটি ক্রেন ধসে পড়ে ট্রেনের ওপর আঘাত হানে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং পরে স্বল্প সময়ের জন্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা মিত্র ইন্ত্রপান্যা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, সকালে তিনি প্রথমে একটি প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পান। এরপর পরপর দুটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়।

ঘটনাস্থলের দৃশ্য ভয়াবহ ছিল জানিয়ে ৫৪ বছর বয়সী মিত্র ইন্ত্রপান্যা বলেন, ‘কী ঘটেছে তা দেখতে গিয়ে দেখি, একটি ক্রেন তিনটি বগিসহ একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর পড়ে আছে। ক্রেনের ধাতব অংশ দ্বিতীয় বগির মাঝ বরাবর আঘাত করে সেটিকে দুই ভাগ করে দেয়।’

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আহত সব যাত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগ
এই দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডে নির্মাণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আবারো প্রশ্ন উঠেছে। দেশটিতে প্রাণঘাতী নির্মাণ দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। নিরাপত্তা মান ও বিধিনিষেধ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়াই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়।

২০২৩ সালে থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে রেললাইন পার হওয়ার সময় একটি পিকআপ ট্রাকের সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে আটজন নিহত এবং চারজন আহত হন।

এ ছাড়া গত বছর মার্চে একটি ভূমিকম্পের সময় ব্যাংককে নির্মাণাধীন একটি বহুতল টাওয়ার ভবন ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই ভূমিকম্পে ব্যাংককের অন্য কোনো ভবন ধসে পড়েনি। ঘটনাটি নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত ত্রুটির বিষয়টি নতুন করে সামনে আনে।

২০২২ সালে ওয়ার্কমেনস কম্পেনসেশন ফান্ড পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, আগের বছরে থাইল্যান্ডে নির্মাণসংক্রান্ত দুর্ঘটনায় চার হাজার ৫০০–এর বেশি শ্রমিক নিহত বা আহত হন।

এ ছাড়া গত সাত বছরে ব্যাংকক থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে সংঘটিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে প্রায় ১৫০ জনের।

্রিন্ট

আরও সংবদ