খুলনা | শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | ২ মাঘ ১৪৩২

ক্রিকেটকে ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব থেকে মুক্ত করতেই হবে

|
১২:২৯ এ.এম | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬


ক্রিকেটকে বলা হয় ‘ভদ্রলোকের খেলা’। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে সেই সংজ্ঞার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে (আইসিসি) ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষায় ক্রিকেটকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার প্রবণতা খেলাটির মূল চেতনাকে কলুষিত করছে।
ক্রিকেট মাঠের লড়াই এখন আর কেবল ব্যাটে-বলের দক্ষতায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর প্রাধান্য বিস্তার এবং কূটনৈতিক তিক্ততা ঝাড়ার নতুন মঞ্চে পরিণত হয়েছে। আর্থিক শক্তিকে ব্যবহার করে ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রভাব বিস্তার করছে। আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে তাদের প্রভাব এতটাই প্রবল যে, অনেক সিদ্ধান্ত কার্যত তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন।
বাংলাদেশের মোস্তাফিজকে কেন্দ্র করে যে অনভিপ্রেত বিতর্ক ভারত শুরু করেছে, তার জেরে এখন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য দোদুল্যমান। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বিসিবি ভারতে গিয়ে খেলতে না চাওয়ার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা মূলত ভারতের ‘দাদাগিরি’র বিরুদ্ধে একটি যৌক্তিক প্রতিবাদ। আইসিসি যেখানে ভারতের স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত, সেখানে বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও স্টাফদের নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের কাছে গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিবির ওপর আইসিসির চাপ এবং ভারতের কট্টরপন্থিদের মোস্তাফিজ-বিরোধিতা প্রমাণ করে যে, ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ এখন আর মাঠের আম্পায়ারদের হাতে নেই, আছে দিলি­র রাজনৈতিক করিডরে।
একজন খেলোয়াড় যখন মাঠে নামেন, তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানে রাজনৈতিক তিক্ততার কারণে কোনো খেলোয়াড়কে হেনস্তা করা বা জাতীয় দলকে নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই ‘ভদ্রলোকের খেলা’র অংশ হতে পারে না। সাবেক রাষ্ট্রদূতরা যথার্থই বলেছেন, খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্রিকেট এখন কূটনৈতিক দ্ব›েদ্বর প্রতিফলন হয়ে উঠেছে। বিসিবি নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যা একদিকে সাহসী, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্রিকেট ও কূটনীতি অবশ্যই ভিন্ন বিষয় হওয়া উচিত। কিন্তু যখন একটি বড় শক্তি নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে অন্য দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাকে জিম্মি করে, তখন তার প্রতিবাদ হওয়া জরুরি। বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা কারও দয়ায় নয়, বরং খেলোয়াড়দের রক্ত পানি করা পরিশ্রমে। সুতরাং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং যথাযথ সম্মান ছাড়া কেবল আইসিসির ‘অনুরোধের আসরে’ গা ভাসিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। 
উপসংহারে বলা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের এই ‘মাতব্বরি’ বা আধিপত্যবাদ খেলাটির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আইসিসি যদি নিরপেক্ষ সংস্থা হিসাবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায়, তবে তাকে ভারতের আজ্ঞাবহ হওয়া বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের উচিত জাতীয় স্বার্থ এবং খেলোয়াড়দের মর্যাদাকে সবার উপরে রাখা। ক্রিকেট যদি সত্যিই ভদ্রলোকের খেলা হয়ে থাকতে চায়, তবে তাকে ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব থেকে মুক্ত করতেই হবে। নইলে মাঠে যত ছক্কা-চারই হোক, খেলার আত্মা ক্রমেই ক্ষয়ে যাবে-আর ক্রিকেট রূপ নেবে শক্তিশালীদের ইচ্ছার খেলায়।

্রিন্ট

আরও সংবদ