খুলনা | মঙ্গলবার | ৩১ মার্চ ২০২৬ | ১৬ চৈত্র ১৪৩২

১ হাজার ৫৩টি মামলা, ১৬টিতে কারাদন্ড

দেশজুড়ে অভিযানে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার তেল জব্দ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৮ এ.এম | ৩১ মার্চ ২০২৬


জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ধরতে সারাদেশে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। ৬৪ জেলায় মোট ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত গত মোট ২৬ দিনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টিতে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
জ্বালানি বিভাগের উপস্থাপনায় বলা হয়, উদ্ধার করা জ্বালানি তেলের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার ডিজেল। এ ছাড়া ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন, ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ মজুতকারীদের কাছ থেকে ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সরবরাহ সংকটের বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, জাহাজ নিয়মিত আসছে বলেই মার্চ শেষেও ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল উদ্বৃত্ত আছে। ৫৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল দু’টো জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে পাইপলাইনে সাত হাজার টন যুক্ত হচ্ছে। এ মাসে চীন, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে আরও প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যাপ্ত মজুত আছে, সংকটের কারণ নেই।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে কৃষকের তালিকা আছে। তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেল সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে। কোনো জেলা থেকে এখন পর্যন্ত অভিযোগ আসেনি। বছরে সরবরাহ করা তেলের মাত্র ৬ শতাংশ অকটেন সরবরাহ করা হয় আর ৬৩ শতাংশ ডিজেল। লাইন কিন্তু ডিজেলের জন্য নয়, অকটেনের জন্য।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, প্রতি মাসেই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়। আগামী মাসের জন্য মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জ্বালানি বিভাগে এসেছে। প্রতি লিটারে কত টাকা বাড়ালে সরকারের কত ভর্তুকি লাগবে; এমন কয়েকটি আলাদা চিত্র আছে প্রস্তাবে। এখন এগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করায় আগামী দুই মাসে রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত থেকে অতিরিক্ত তেল আমদানি করতে ইতিমধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে শিগগিরই ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দু’টি জাহাজ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পাশাপাশি নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত বা পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি ও নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে। এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ।
জ্বালানি বিভাগের উপস্থাপনায় বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহ পার করছে। এতে বিশ্বে নজিরবিহীন জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ নিয়ে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, অবৈধ মজুতদারি, ভীতি থেকে বাড়তি কেনার কারণে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে মার্চে সরবরাহ ব্যাহত হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বেশি সরবরাহ করা হয়েছে, বিশেষ করে ঈদের সময়। বিপিসির একার পক্ষে সংকট সামলানো সম্ভব নয়। তাই জেলা প্রশাসনকে যুক্ত করা হয়েছে। ভিজিল্যান্স দল গঠন করা হয়েছে। গত রোববার সব জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গেও সভা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাশ্রয়ের কথা বলা হচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ