খুলনা | মঙ্গলবার | ৩১ মার্চ ২০২৬ | ১৬ চৈত্র ১৪৩২

ক্ষোভ সাধারণ ঠিকাদারদের

পাম্প বসানোর কাজে ইচ্ছেমত ডিপিপি তৈরির অভিযোগ, অস্বীকার পাউবোর

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:০০ এ.এম | ৩১ মার্চ ২০২৬


খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে পাম্প বসানোর কাজে ইচ্ছেমত ডিপিপি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের ঠিকদারদের কাজ দিতেই দরপত্র প্রক্রিয়াটি সার্বজনীন না করার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও সামনে এনেছেন তারা। তবে পাউবো কর্তৃপক্ষ বলছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাজকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সঠিক প্রকিওরমেন্ট মেনেই দরপত্র তৈরি করা হয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার শৈলমারি নদীর দুই জায়গায় ৫টি পাম্প বসানো হবে। এর মধ্যে কৈয়া বাজার সংলগ্ন নদীতে দুইটি এবং রামদিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় তিনটি পাম্প বসানো হবে। যার সম্ভ্যব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
অভিযোগ উঠছে, এর আগে এইসব কাজ বাস্তবায়ন করা হতো সব শ্রেণির ঠিকাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে। যে লক্ষ্যে শৈলমারিতে একই জায়গায় ২০২৪ সালে স্লুইচ গেটে মেশিন বসানো হয়। সেই সময়েও হোয়াটসে (সব শ্রেণির ঠিকাদার অংশ নেয়) কাজটির দরপত্র তৈরি করা হয়। ওই কাজটি বাস্তবায়ন করে গ্রিন জেনেসিস ইঞ্জিনিয়ারিং লি. নামক প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০২২ সালেও হোয়াটসে কাজটি বাস্তবায়িত হয়। ওই সময় একাধিক ঠিকাদার কাজটি বাস্তবায়নের জন্য দরপত্রে অংশ নেয়। একাধিক ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নেওয়ার কারণে প্রতিযোগীতা হতো। সরকারের আর্থিক ক্ষতি হতো না। বরং সকলের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ায় কম রেটে কাজ করলে সরকার লাভবান হতো। তবে এবার সেই প্রক্রিয়ায় না গিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিতেই সম্ভবত গুডসে (সরবরাহকারী ঠিকাদার) দিয়ে কাজটি করাতে চাচ্ছে। গুডসের ঠিকাদার পানি উন্নয়ন বোর্ডে ২/১ জন রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন খুলনা পাউবো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার। তিনি বলেন, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের দরপত্রের যে রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে সেসময় এ ধরনের কাজে আমরা নতুন ছিলাম। পাম্প হচ্ছে একটি ‘মুভএবল’ পন্য। এসব কাজের দরপত্র সাধারণত গুডসে হয়। তবে পাউবোতে গুডসের কাজের অভিজ্ঞতা কম। সরকারের অন্য দপ্তরেও এসব পণ্য গুডসে হয়। ফলে এবারে আমরা গুডসে সরবরাহ করার উদ্যোগ নেই। কারণ এতে কাজের মান ভালো হয়। ফলে এবারের ডিপিপিতে ডিজির মহোদয়ের দপ্তরের কন্টাক্ট ও প্রকিউরমেন্ট বিভাগের অবজারভেশন মেনেই ওই বিষয়টি উল্লেখ করি। এটি হবে ওপেন দরপত্র। এখানে কোন নেতিবাচক উদ্দেশ্য নেই বলে তিনি দাবি করেন।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ