খুলনা | রবিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ৪ মাঘ ১৪৩২

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

খুলনার সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সাথে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৪:৩৬ পি.এম | ১৭ জানুয়ারী ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন :  খুলনাবাসীর প্রত্যাশা শীর্ষক খুলনার সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সাথে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমম্বয় কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমম্বয় কমিটির পক্ষ থেকে খুলনার উন্নয়নে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবির ফিরিস্তিপত্র তুলে দেওয়া হয়।  

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমম্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামানের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির উৎসবের সার্বিক পরিচালনায় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে বক্তৃতা করেন।

খুলনা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আমীর এজাজ খান বলেন, শিল্প নগরী খুলনাকে উজ্জীবিত করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই ব্রিজ ও বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন। তিনি বলেন, দাকোপের পানখালী খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন।

খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনাকে এখন অন্ধকার সিটি বলা যায়। খুলনায় চারিদিকে যেমন মাদকের ছড়াছড়ি তেমনি খুনও হচ্ছে। খুলনা এখন খুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিগত এক বছরে অনেক খুন হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত দিনে খুলনায় যারা প্রথম শ্রেণীর নাগরিক ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই এখন ঢাকাবাসী হয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, খুলনায় এখন ন্যায়ভিত্তিক সুশাসনের প্রয়োজন, তবে সময়ের দাবি। এসব সমস্যা রোধে বিএনপি ইতোমধ্যে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খুব তাড়াতাড়ি যেটা আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিএনপি খুলনাবাসীর সাথে থেকে কাজ করতে চায়।

খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এড. জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল বলেন, খুলনাকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যোগ্যতার মাপকাঠিতে খুলনাবাসীর সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

খুলনা-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, খুলনার উন্নয়ন ও কল্যাণে খুলনাবাসীর সাথে থাকবেন তিনি। তিনি বলেন, খালিশপুর এখন মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। খুলনার নিউজপ্রিন্ট মিলসহ বিভিন্ন কল-কারখানার মালামাল লুটপাট করায় কলকারখানাগুলো এখন বন্ধ হয়ে আছে। বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা পেলে এসব সমস্যা সমাধানে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরো বলেন, খুলনায় আইনশৃঙ্খলার খুব অবনতি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো তৎপর হওয়া প্রয়োজন। খুলনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫৮ জন খুন হয়েছে। অধিকাংশ খুন হয়েছে মাদক সংক্রান্ত কারণে। দৌলতপুর, খালিশপুর উন্নতমানের হাসপাতাল প্রয়োজনের কথা বলেন তিনি।

খুলনা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জনার্দন দত্ত নান্নু বলেন, বিগত সরকার লুটপাটের রাজনীতি করেছে। খুলনার উন্নয়নে প্রথমে গ্যাস সংযোগ দিতে হবে। রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে হবে।  খুলনাকে অত্যাধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

খুলনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ খান লিটন বলেন, খুলনার উন্নয়নে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রামের সমন্বয় কমিটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে খুলনার উন্নয়নে সব ধরনের কাজ করা হবে।

খুলনা-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ মোঃ আসাদুল্লাহ ফকির বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, খুলনার মানুষের সেবার জন্য আমাদের রাজনীতি।

এ সময় বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুক হক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সভাপতি রাশিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ রেহেনা আক্তার, জাতীয়তাবাদী খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নূরুল হাসান রুবা, এড.  ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক, খুলনা ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের ভাইস-চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম জহির, মাহবুবুর রহমান খোকন।

এ সময় শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর ইমাম, উন্নয়ন কমিটি নেতা নিজাম রহমান লালু, উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি সাংবাদিক অধ্যাপক মোঃ আবুল বাশার, মিজানুর রহমান বাবু, মামনুরা জাকির খুকুমণি, মোঃ খলিলুর রহমান, যুগ্মম-মহাসচিব মনিরুজ্জামান রহিম, মনিরুল ইসলাম মাস্টার, কোষাধাক্ষ শেখ গোলাম সরোয়ার, আরিফ নেওয়াজ, রকিব উদ্দিন ফরাজীসহ উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

্রিন্ট

আরও সংবদ