সময়ের খবর

খুলনা | শুক্রবার | ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ১০ মাঘ ১৪৩২

করাচিতে শপিং মলে ভয়াবহ আগুন : নিহত ২৮, নিখোঁজ ৮১

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৩ এ.এম | ২১ জানুয়ারী ২০২৬


পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত করাচি শহরের অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ২৮ জন এবং এখনও নিখোঁজ আছেন ৮১ জন। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

গুল প্লাজা করাচির সবচেয়ে বড় শপিং মলগুলোর মধ্যে একটি। ১৯৮০ সালে তৈরি হওয়া এই ৪ তলা মার্কেট ভবনটির আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় এবং ১ হাজার ২ শতাধিক দোকান আছে এখানে। আগুনে এসব দোকানের অধিকাংশই ভস্মীভূত হয়েছে।

গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার আগুন লাগে গুল প্লাজায়। শুকনো আবহাওয়ার কারণে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পুরো শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়া সেই আগুনের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে।

ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সূত্রপাত হয়েছে আগুনের। তবে হতাহত এবং নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে গুল প্লাজা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানিয়েছেন, গুল প্লাজায় মোট ফটক বা গেইটের সংখ্যা ২৬টি, কিন্তু চলাচলের জন্য ২টি বাদে বাকি সবগুলো গেইট সবসময় বন্ধ থাকতো। আগুন লাগার সময়েও ফটকগুলো আর খোলা হয়নি। ফলে শত শত মানুষ শপিং কম্পেক্সটিতে আটকা পড়েছিলেন। এছাড়া মার্কেটের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলোও নষ্ট ছিল বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশসূত্রে জানা গেছে, এর আগে করাচিতে এত বড় আকারের অগ্নিকাণ্ড দেখা যায়নি। করাচি পুলিশের কর্মকর্তা ও চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া সাঈদ জিও নিউজকে জানিয়েছেন, নিহত এবং আহতদের সবাইকে করাচির সিভিক হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং নিহতদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮ জননের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওেয়া গেছে।

ডা. সুমাইয়া আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বা নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের তাদের নিহত/নিখোঁজ স্বজনদের ডিএনএ নমুনা আনতে বলা হয়েছে। এছাড়া যে ৮১ জন নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৭৪ জনের নাম সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

“নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুধবার গুল প্লাজার প্রথম তলার অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অনুসন্ধান শুরু হবে”, জিও নিউজকে বলেন ডা, সুমাইয়া।

করাচি পাকিস্তানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিন্ধের রাজধানী। এটি পাকিস্তানের প্রধান বন্দরশহর এবং দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যের ৮০ শতাংশই হয় এই বন্দরের মাধ্যমে।

করাচির গভর্নর কামরান তেসোরি আগুনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
সূত্র : জিও নিউজ

্্ট

আরও সংবদ