সময়ের খবর

খুলনা | বুধবার | ২১ জানুয়ারী ২০২৬ | ৮ মাঘ ১৪৩২

বেতন কমিশন

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা

খবর প্রতিবেদন |
০৪:২৩ পি.এম | ২১ জানুয়ারী ২০২৬


নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত। প্রথম ধাপে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আর সর্বনিম্ন অর্থাৎ ২০তম ধাপে মূল বেতন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হচ্ছে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে ২০তম ধাপে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। সর্বোচ্চ ধাপে নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা।

সরকারি চাকরিজীবীরা অধীর অপেক্ষায় ছিলেন নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো ঘোষণার। সে অনুযায়ী জাতীয় বেতন কমিশন তাদের কাজ শেষ করে এনেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক. ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে বেতন কমিশন সুপারিশসহ প্রতিবেদন তুলে দেবে।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে গত ২৭ জুলাই গঠন করা হয় জাতীয় বেতন কমিশন। ২১ সদস্যের এ কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

নবম পে-স্কেল নিয়ে সব মন্ত্রণালয়ের ৭০ জনেরও বেশি সচিবের সঙ্গে চার দফায় মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় মতামত সংগ্রহ করে কমিশন।

এছাড়া গতবছরের ১ থেকে ১৫ অক্টোবর সাধারণ নাগরিক, সরকারি চাকরিজীবী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি এই চার শ্রেণিতে প্রশ্নমালার মাধ্যমে কমিশন অনলাইনে সর্বসাধারণের মতামত সংগ্রহ করে কমিশন।

বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে।

এদিকে বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাড়তে পারে বৈশাখী ভাতা। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা পান। এটি বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এছাড়া ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা দেয়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছে বেতন কমিশন। এত দিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য এই ভাতা চালু ছিল।

বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে প্রথম থেকে ১০ম ধাপ পর্যন্ত তুলনামূলক কম হারে দেয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি রাখার সুপারিশ করা হচ্ছে।

এদিকে পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করছে বেতন কমিশন। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশের মতো বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। অন্যদিকে যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান তাদের ৭৫ শতাংশ এবং যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান তাদের ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পে-স্কেল নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বুধবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পে-স্কেলের সুপারিশ জমা দেবে পে-কমিশন। সরকারি চাকরিজীবীরা খুশি হবেন এমন সুপারিশ থাকবে প্রতিবেদনে।

সুপারিশের ক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম এবং বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে কমিশনের সব প্রস্তাব হুবহু বাস্তবায়ন না-ও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর বিভিন্ন কমিটি তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে, এরপরই বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুসারে বেতন-ভাতা পান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১৫ লাখ।

্্ট

আরও সংবদ