খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ জানুয়ারী ২০২৬ | ৯ মাঘ ১৪৩২
ধানের শীষে ভোট দিন, করব কাজ-গড়ব দেশ
বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ দেশের সম্পদ লুট করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। আগামীতেও জনগণ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।’
তারেক রহমান বলেছেন, দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। জাতি টেইক ব্যাক করে বাংলাদেশের অর্ধেক পথে এসেছে। ১২ তারিখ ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে সেই অগ্রযাত্রা পূর্ণতা পাবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। ধানের শীষে ভোট দিন, করব কাজ-গড়ব দেশ।
গণতন্ত্র হাজার বছরের চর্চার ফল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোতে আমরা দেখি-ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সব জায়গায় গণতান্ত্রিক অনুশীলন কার্যকরভাবে রয়েছে।
বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত কম উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অর্থনৈতিক অক্ষমতার কারণে বহু মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে সীমিত সম্পদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে জমি অধিগ্রহণ, বাজেট, টেন্ডার-সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় লাগে। অথচ রোগীরা সেই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা পায় না। তাই দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জরুরি।
তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল করা বাস্তবসম্মত নয়। উন্নত দেশগুলোতেও নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশেও পরিকল্পনা করতে হবে।
প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে হেলথ কেয়ার ওয়ার্কারদের মৌলিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে সাধারণ রোগে ঘরে ঘরেই প্রাথমিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে এবং হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও স্থানীয় কমিউনিটি পর্যায়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বিদেশে যায়, যাদের বড়ো অংশই অদক্ষ। ফলে তারা দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত অবদান রাখতে পারে না।
তারেক রহমান বলেন, আমরা কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করতে চাই। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা যুক্ত করা হবে, যাতে তরুণরা জাপান, ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে।
নারী ক্ষমতায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময় মেয়েদের শিক্ষায় বিনামূল্য ব্যবস্থা চালুর ফলে আজ নারী শিক্ষায় বড়ো অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি জানান, বিএনপি সরকারের পরিকল্পনায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে অর্থ লুট করে নেয়া হয়েছে। লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অবস্থার উন্নয়ন করতে চাই। যারা পালিয়ে গিয়েছে, যারা বাক-স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো শত হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। গুম খুনের মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লাখ লাখ মানুষের এই জমায়েতের জন্য হাজারো মানুষ ২০২৪ সালে জীবন দিয়েছে। একাত্তরের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের গণতন্ত্রকামীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে জনতা।
তারেক রহমান বলেন, নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল বিএনপি। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই।
তারেক রহমান যোগ করেন, গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা অর্থ পেলে তা সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের স্বাস্থ্য ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় করেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হয় এবং নারীর আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ে।
পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, নাগরিকের কথা বলার অধিকার থাকলেই শহরের ময়লা ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মতো সমস্যা সমাধান সম্ভব।
তিনি জানান, বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ৮০ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি নার্সারির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে চারা বিতরণ করা হবে।
কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এটি অর্থনীতির একটি বাস্তবতা। তবে অন্যায় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষককে প্রতীকী সহায়তা নয়, বাস্তব ও কার্যকর সহায়তা দিতে হবে।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন আম্বরখানা মসজিদের ইমাম মাওলানা ছালিক। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মঞ্চে উঠেন তারেক রহমান। এ সময় স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে আলিয়া মাদরাসা মাঠ।
সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে বিমানবন্দর এলাকার গ্রান্ড সিলেট হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। জনসভায় বিপুল নেতাকর্মী সিলেট ও সুনমাগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অংশ নিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিতে এবং মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পরিচালনায় শুরুতে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।