খুলনা | শুক্রবার | ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ১০ মাঘ ১৪৩২
ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সসহ যে আটটি ইউরোপীয় দেশ দ্বীপটি অধিগ্রহণের বিষয়ে বিরোধিতা করেছিল তাদের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসারও কথা জানিয়েছেন তিনি। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকের পর নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তার ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের ভিত্তিতে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির একটি রূপরেখা’ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘এই সমাধান যদি চূড়ান্ত হয়, তবে সেটা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর দেশগুলো-সবার জন্যই একটি চমৎকার বিষয় হবে।’
ওই পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘এই বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করে আমি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে (ইউরোপের আট দেশের ওপর) কার্যকর হতে যাওয়া শুল্ক আরোপ করছি না।’ তবে তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা চলমান। আলোচনার অগ্রগতির বিষয়টি পরবর্তী সময় জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরো অনেকে এই আলোচনার যুক্ত থাকবেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা সরাসরি আমাকে জানাবেন।’
এর আগে দাভোসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই থাকা উচিত। তবে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চল দখলে নিতে বলপ্রয়োগ করা হবে না। ট্রাম্পের ভাষ্য, “উত্তর মেরুর আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলছে এবং পরাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়ে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে খনিজসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে ইচ্ছামতো সেনা মোতায়েন করতে পারে। বর্তমানে দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একশরও বেশি সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।
রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কারণে পুরো আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব বাড়ছে। ট্রাম্প অবশ্য ন্যাটোর অজুহাত দেখিয়ে গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলেও, ডেনমার্ক নিজেও ন্যাটোর সদস্য দেশ।
ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো ‘যেকোনো ও সব ধরনের পণ্যের’ ওপর পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, পহেলা জুন থেকে সেই হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।
একই শুল্ক আরোপের কথা ছিল ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আসা পণ্যের ক্ষেত্রেও-যাদের সবাই ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর সদস্য।
তবে রুটের সঙ্গে আলোচনার পর বুধবার ট্রাম্প সেই হুমকি প্রত্যাহার করেন। ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করা হচ্ছে।
তিনি লেখেন, ‘এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আমি আরোপ করব না’।
বুধবার দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য তিনি ‘তাৎক্ষণিক আলোচনা’ চান, তবে এটাও জোর দিয়ে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করে ওই ভূখণ্ড দখল করবে না।
আন্তর্জাতিক
প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে