খুলনা | শনিবার | ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | ১০ মাঘ ১৪৩২
মানতেই হবে নিরাপত্তা শঙ্কা আছে : ফারুকী
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্র“প পর্বের চারটি ম্যাচই ভারতে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটি থেকে নিজেদের ম্যাচ সরিয়ে নিতে আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়ে একাধিকবার চিঠি দেয় বিসিবি। এরপর দফায় দফায় আলোচনা করেও আইসিসির থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়নি বিসিবি। শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নাম না সরিয়ে নিলেও এই আসরে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে। এর জন্য আইসিসিকেই দায়ী করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকী লিখেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিলেও বাংলাদেশের বেলায় আইসিসি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।’
‘সা¤প্রতিক সময়ে ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক গতকালই (বৃহস্পতিবার), পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া এক মুসলিম মঞ্জুর লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দ্য টেলিগ্রাফ অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে।’-যোগ করেন তিনি।
বিশ্বকাপ ইস্যুর সূত্রপাত মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনা থেকে। ভারতের কিছু চরমপন্থী হিন্দু নেতাদের হুমকির পর দেশটিতে মুস্তাফিজের নিরাপত্তা শঙ্কা আছে, এমনটা বলেই তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরই ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার প্রশ্নে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা সামনে আনে বিসিবি।
ভারতের এসব কান্ড নিয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ঘটনাগুলোর সঙ্গে যদি দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশ বিরোধী ঘৃণা প্রচারণাকে যুক্ত করা হয়, যার ফল হিসেবে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাহলে মানতেই হবে যে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তা হুমকি বাস্তব ও গুরুতর।’
বাংলাদেশি অভিহিত করে ভারতীয় মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে তাকে মুসলিম হিসেবে অভিহিত করে চুরির অভিযোগ এনে নির্মম নির্যাতন করা হয়।
সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া শুক্রবার জানিয়েছে, বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর যে সহিংসতা ভারতে চলছে এটি তার সর্বশেষ ঘটনা। ওই ব্যক্তির নাম মঞ্জুর আলম লস্কর বলে জানা গেছে। ৩২ বছর বয়সী মঞ্জুরকে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলুতে হিন্দুত্ববাদীরা পিটিয়ে হত্যা করে।
সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বলছে, নিহত মনজুর আলম লস্কর উস্থি থানার অন্তর্গত রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার জানিয়েছে, তিনি প্রায় এক দশক ধরে কোমারোলু এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পরও তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে এলাকা ছাড়তে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে তাকে অপহরণ করা হয় এবং ২৫ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এরপর গত মঙ্গলবার মনজুরের স্ত্রীর কাছে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্বামীর প্রাণের আশঙ্কায় পরিবার কোনোভাবে ৬ হাজার রুপি জোগাড় করে অনলাইনে পাঠায়। কিন্তু বুধবার রাতে পরিবারকে জানানো হয়, মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে।
মনজুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকান্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদী দুষ্কৃতিকারীরাই এটি ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করেছিল এবং তার সহযোগীরাই আমার ভাইকে খুন করেছে।’
মঞ্জুরের বাড়ি রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণপুর গ্রামে অবস্থিত। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশে এক যুগের বেশি সময় ধরে জরির কাজ করতেন। দীর্ঘসময় ধরে সেখানে থাকায় স্থানীয় মানুষজন তাকে চিনতেন। কিন্তু তা সত্তে¡ও তাকে বাংলাদেশি হিসেবে অভিহিত করে সেখান থেকে চলে যেতে হুমকি দিয়েছিল হিন্দুত্ববাদীরা।
সংবাদমাধ্যম বলছে, হত্যাকান্ডের আগে প্রথমে মনজুরকে ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দেয়া হয় এবং পরে একটি চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা পরে জানতে পারেন। পরিবারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অবিলম্বে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বর্তমানে টিডিপি-জেএসপি-বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।
যেসব উগ্রবাদী এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে মঞ্জুরের পরিবার। এক্ষেত্রে তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহায়তা চেয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যেই এই হত্যাকান্ড ঘটলো। উস্থির তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব একে বিজেপি বা তাদের মিত্র দল পরিচালিত রাজ্যগুলোতে সংখ্যালঘু বাঙালি ভাষাভাষীদের চলাচল ঠেকাতে পরিকল্পিত সন্ত্রাস বলে দাবি করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। আর কত মায়ের সন্তান প্রাণ হারালে তাদের টনক নড়বে? এই নিষ্ঠুরতা ক্ষমার অযোগ্য।’
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।