সময়ের খবর

খুলনা | শনিবার | ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | ১১ মাঘ ১৪৩২

‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’

মসজিদের নামে যানবাহন-রাস্তায় চাঁদা তোলা যাবে না

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৪ এ.এম | ২৪ জানুয়ারী ২০২৬


জনগণের স্বেচ্ছায় প্রদত্ত দান, অনুদান, সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি সংস্থা বা অন্য কোনও উৎসের আর্থিক সহযোহিতায় মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা ব্যয় নির্বাহ করা যাবে। তবে মসজিদের নামে যানবাহনে বা রাস্তাঘাটে চাঁদা আদায় বা উত্তোলন করা যাবে না। এই বিধান রেখে গত ২১ জানুয়ারি ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ জারি করেছে অন্তর্বতী সরকার। এছাড়াও বিধিমালায় বলা হয়েছে, অবৈধ স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে তা উচ্ছেদ করা যাবে। আর যারা নির্মাণ করবেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা যাবে।
২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি অষ্টম জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের পঞ্চম বৈঠকে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে উত্থাপিত এক নোটিশের জবাবে তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতি’ প্রণয়ের অঙ্গিকার করেন। যেহেতু দেশের মসজিদগুলোর ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন, সেহেতু ‘মসজিদ ব্যবস্থা নীতিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। গত ২১ জানুয়ারি নীতিমালাটি গেজেট আকালে প্রকাশিত হয়।
নীতিমালার ‘মসজিদ নির্মাণের স্থান’ সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়, ‘‘শরিয়াহ্ সম্মত স্থানে এবং মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সমজিদের নামে ওয়াকফ, দান, ক্রয়কৃত অথবা আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমিতে মসজিদ নির্মাণ করতে হবে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে উচ্ছেদ করা যাবে এবং এরূপ মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।’’
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালার আলোকে শরিয়াহ্-সম্মত স্থান এবং ওয়াকফ দান ও মসজিদের নামে কেনা সম্মতির বাইরের সম্পত্তি ‘অবৈধ’ স্থান হিসেবে গণ্য হবে। মসজিদের নয়, এমন সম্পত্তিতে মসজিদ করা যাবে না সরকারের অনুমতি না নিয়ে।
মসজিদে নারীদের সালাতের ব্যবস্থা করা যাবে : নীতিমালার ‘নারীদের জন্য সালাতের স্থান’ বিধিতে বলা হয়, ‘‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি শরিয়তসম্মত ভাবে নারীদের জন্য পৃথক সালাতের কক্ষ বা স্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন।’’
মসজিদে কর্মরতরা রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না : নীতিমালায় ‘মসজিদে কর্মরত সব জনবলের করণীয়’ সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করা।’’
অরাজনৈতিক দ্বীনি দাওয়াত ও নিয়মিত ওয়াজ পরিচালনা করা যাবে : মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে বিধানে বলা হয়, ‘‘সভাপতি বা মসজিদ কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে সাধারণ সম্পাদক মসজিদে অরাজনৈতিক দ্বীনি দাওয়াত সংস্থা তথা তাবলিগ জামাত, পীর-মাশায়েকদের জিকির আজকার এবং ওয়াজ মাহফিল কার্যক্রম পরিচালনাদের জন্য মসজিদের অভ্যন্তরে একটি পৃথক স্থান নির্ধারণ করে দেবেন। যাতে তারা মুসল্লিদের সালাত বিঘœ না ঘটিয়ে, ওই নির্ধারিত স্থানে নিরিবিলিতে বয়ান করতে পারেন।’’
নীতিমালার পেশ ইমামের দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধানের একাংশে বলা হয়, ‘‘কমিটির সহযোগিতায় নিয়মিত তাফসিরম দারুল কোরআন, দারুল হাদিস, ওয়াজ পরিচালনা করা যাবে।’’ 
ইমাম-খতিবের বেতন : নীতিমালা অনুযায়ী, ‘‘মসজিদের কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে খতিব চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। আর সিনিয়র পেশ ইমাম বেতন পাবেন ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেড অনুযায়ী। পেশ ইমাম বেতন পাবেন ষষ্ঠ গ্রেডে, ইমাম বেতন পাবেন নবম গ্রেড অনুযায়ী, প্রধান মুয়াজ্জিন বেতন পাবেন দশম গ্রেডে, আর মুয়াজ্জিন পাবেন ১১তম গ্রেডে। এছাড়া প্রধান খাদিম পাবেন ১৫তম গ্রেডে, নিরাপত্তা প্রহরী (দিবা), নিরাপত্তা প্রহরী (নৈশ) এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তেন-ভাতা পাবেন ২০তম গ্রেডে।’’
আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করা যাবে। এই বেতন স্কেল বেতন কাঠামো সরকার কর্তৃপক্ষ সময়ে সময়ে জারিকৃত জাতীয় বেতন স্কেল অনুযারে এভাবে পরিবর্তিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।
ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ তিন বছর : প্রত্যেকটি মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি থাকবে-যা ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ নামে অভিহিত হবে। সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত মসজিদের ক্ষেত্রে সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিযুক্ত কমিটি। মসজিদের মুসল্লিরা এই কমিটি নির্বাচন করবেন। এই মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণে মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর বাড়ানো যাবে।
অবৈধ জায়গায় তৈরি মসজিদ উচ্ছেদ করার বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অবৈধ জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষ (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) উচ্ছেদ করবে।’’
উপদেষ্টা বলেন, ‘‘মসজিদের জায়গা স্বচ্ছ-পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। কারও দান করা জায়গায় করবে, অথবা সরকারের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। কেউ বন বিভাগের জায়গায়, কিংবা রেলের জায়গায় মসজিদ করে দিলো, এটা তো ঠিক হলো না। এই জায়গার মালিকানা তো তার না। যত্রতত্র মসজিদ করে ফেললে সামাজিক সমস্যা দেখা দেয়।’’  
নীতিমালায় উল্লিখিত মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (সংস্থা ও আইন অনুবিভাগ) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘শরিয়াহ সম্মত স্থানে মসজিদ নির্মাণ না করে যদি অবৈধস্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তাহলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করতে পারবে। যে কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। কারণ যে কেউ উচ্ছেদ করলে তো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। আর যারা অবৈধস্থানে মসজিদ নির্মাণ করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও যথযথ কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।’’

্্ট

আরও সংবদ