খুলনা | রবিবার | ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ | ১২ মাঘ ১৪৩২
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) ধুয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক দুই অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি এবং মোহাম্মদ ইউসুফ। এই সিদ্ধান্তকে অসঙ্গত ও বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা। প্রতিবেদন জিও সুপারের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে আফ্রিদি তার হতাশা প্রকাশ করেন এবং ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময় ভারতের পাকিস্তান সফর না করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনা টানেন।
আফ্রিদি লেখেন, ‘বাংলাদেশে এবং আইসিসি ইভেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজ আইসিসির এই অসঙ্গত আচরণে আমি গভীরভাবে হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি মেনে নিয়েছে, অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের বোঝাপড়া দেখানো হচ্ছে না।’
সাবেক বিস্ফোরক এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি (মানুষের) আস্থা ধরে রাখতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমতা ও একই অবস্থান অত্যন্ত জরুরি। ন্যায্যতাই বৈশ্বিক ক্রিকেট পরিচালনার ভিত্তি। বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও তাদের কোটি কোটি সমর্থক সম্মান পাওয়ার যোগ্য, দ্বৈত মানদণ্ড নয়। আইসিসির উচিত সেতুবন্ধন তৈরি করা, বিভাজন নয়।’
এদিকে সাবেক পাকিস্তান ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফও বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তার কারণে একটি ক্রিকেটপ্রেমী দেশ ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা দুঃখজনক।
ইউসুফ বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে ক্রিকেটপ্রেমী একটি দেশ বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়ায় ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অতীতে যখন এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তখন নিরপেক্ষ ভেন্যু অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। দেশভেদে মানদণ্ড বদলানো যায় না।’
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আইসিসির উচিত নিরপেক্ষ ও ন্যায্য ভূমিকা পালন করা, কোনো একক বোর্ডের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। ইউসুফের ভাষ্য, ‘আইসিসিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মতো আচরণ করতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। ন্যায্যতা ও একই মনোভব বজায় রাখাই বৈশ্বিক ক্রিকেটের ভিত্তি।’
উল্লেখ্য, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি ঘোষণা করেছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অংশ নেবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এই টুর্নামেন্ট। একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, ভারতের ভেন্যু থেকে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আবেদন খারিজ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কারণ ভারতে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি।