খুলনা | বুধবার | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৪ মাঘ ১৪৩২
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্র“তামূলক সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমনকি ইরানে কোনো হামলায় লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না আমিরাত। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপের পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম উপায় বলে জানিয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি তা ব্যাপক আকার ধারণ করে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস এ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) ইরানে সা¤প্রতি বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব নজিরবিহীন ওই বিক্ষোভ দমনের পর এখনো টিকে আছে। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারী অনেকে পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হিসেবে এখনও বাইরের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, সেটি এখনো একটি বিকল্প।
দেশটির রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনার একটি আমিরাতের এই ঘাঁটি।
এর আগে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি মার্কিন ‘নৌবহর’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর ইরানের পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠ ভাবে নজর রাখছে বলেও তিনি উলেখ করেন।